স্টাফ রিপোর্টার ::
দিরাই উপজেলা স্টেডিয়ামে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সিলেটের জারা ¯েপার্টিং ক্লাব ও স্থানীয় স্বপ্নচূড়া স্পোর্টিং ক্লাবের মেয়েদের মধ্যে গতকাল সোমবার বিকেলে ম্যাচটি হওয়ার কথা ছিল। তবে খেলা আয়োজন নিয়ে স্থানীয় একটি পক্ষ আপত্তি জানানোয় শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি স্থগিত করেছেন আয়োজকেরা।
স্বপ্নচূড়া ¯েপার্টিং ক্লাবের সভাপতি ও কোচ রাকিব আহমেদ ভূঁইয়া বলেন, সোমবার বিকেল সাড়ে চারটায় ম্যাচটি হওয়ার কথা ছিল। এ বিষয়ে তিনি প্রায় পাঁচ দিন আগে দিরাইয়ের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সঞ্জীব সরকারকে জানিয়েছিলেন। সিলেটের দলের কর্মকর্তা ও খেলোয়াড়েরাও রোববার দিরাইয়ে পৌঁছান।
রাকিব আহমেদ বলেন, রোববার রাতে তিনি জানতে পারেন, স্থানীয় কয়েকজন ইউএনও কার্যালয়ে গিয়ে মেয়েদের ফুটবল ম্যাচ বন্ধের দাবি জানিয়েছেন। এরপর তিনি ইউএনওর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সোমবার সকালে তাকে জানানো হয়, দুই পক্ষই স্থানীয় হওয়ায় আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতা করে খেলা আয়োজনের চেষ্টা করতে হবে। তা সম্ভব না হলে খেলা স্থগিত রাখতে হবে।
পরে দুপুরে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন আয়োজকেরা। পুলিশের পক্ষ থেকেও খেলা স্থগিত করার কথা বলা হয়েছে বলে দাবি করেন রাকিব। এরপর তারা ম্যাচটি স্থগিত করেন।
খেলা বন্ধের দাবিতে গত রবিবার রাতে ইউএনও’র সঙ্গে দেখা করেন দিরাই পৌর এলাকার চ-ীপুরের বাসিন্দা মাওলানা শরিফ উদ্দিনসহ কয়েকজন। পরে তারা এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। সোমবার সকালেও তারা ইউএনও কার্যালয়ে গিয়ে খেলা বন্ধের দাবি জানান।
শরিফ উদ্দিন নিজেকে ‘দিরাইয়ে ইসলামবিরোধী কার্যকলাপ প্রতিরোধ কমিটি’র সভাপতি পরিচয় দিয়ে বলেন, তারা খেলাধুলার বিরোধী নন। তবে মেয়েদের ফুটবল খেলার নামে ‘অশ্লীলতা’ হবে এমন আশঙ্কা থেকে তারা আপত্তি জানিয়েছেন। তিনি জানান, আগে তারা কিশোরীদের ফুটবল খেলার কথা শুনেছিলেন; পরে মাইকিং করে ‘মহিলাদের ফুটবল’ বলা হচ্ছে।
তবে আয়োজক রাকিব আহমেদের দাবি, স্বপ্নচূড়া স্পোর্টিং ক্লাবটি ২০১৯ সালে গড়ে ওঠে এবং স্থানীয় কিশোরীদের নিয়ে দলটি নিয়মিত ফুটবল খেলে আসছে। এর আগে তাদের আমন্ত্রণে দেশের বিভিন্ন জেলার মেয়েদের দল দিরাইয়ে এসে খেলেছে। স্বপ্নচূড়ার খেলোয়াড়েরাও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় খেলতে গেছেন। জাতীয় পর্যায়েও দলের খেলোয়াড়েরা অংশ নিয়েছেন। এত দিন পর একটি ম্যাচ আয়োজন নিয়ে আপত্তি ওঠায় তিনি বিস্মিত।
এ বিষয়ে দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সঞ্জীব সরকার বলেন, চার থেকে পাঁচ দিন আগে রাকিব আহমেদ নামের একজন এসে বলেছিলেন, মাঠে কিশোরীরা ফুটবল খেলবে। এখন শুনছেন খেলার জন্য নাকি কার কাছ থেকে স্পন্সর নেওয়া হয়েছে, এ নিয়ে কিছু ঝামেলা আছে। একটি পক্ষ নারীদের এই খেলার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। যেহেতু দুই পক্ষই দিরাইয়ের বাসিন্দা, তাই আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতা করে খেলতে বলা হয়েছিল। এখন আয়োজকেরা জানিয়েছেন, তারা নিজেরাই খেলাটি স্থগিত করেছেন।
দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, আয়োজকরা প্রীতি ম্যাচ আয়োজনের জন্য উপজেলা প্রশাসনের কাছ থেকে অনুমতি নিয়েছিলেন। নিরাপত্তার জন্য আমাদের অবগত করা হলে আমরাও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রস্তুত ছিলাম। পরে উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে আয়োজকরাই ম্যাচ স্থগিত ঘোষণা করে দেন। এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।