স্টাফ রিপোর্টার ::
শাল্লায় ইজারাকৃত ‘ছোটপুরা বিল’ জলমহাল জবরদখলের চেষ্টা ও মৎস্য আহরণে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে শাল্লা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন চন্দ্র কুমার দাস। তিনি রঘুনাথপুর হিলিপ মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেডের একজন সদস্য।
গত ২৭ সেপ্টেম্বর দেওয়া লিখিত অভিযোগে চন্দ্র কুমার দাস উল্লেখ করেন, ১৪৩২-১৪৩৭ বাংলা সন পর্যন্ত ‘ছোটপুরা বিল’ জলমহালটি ইজারা নেওয়ার পর সরকারি নির্ধারিত খাজনা ও ইজারামূল্য পরিশোধ করা হয়েছে। এছাড়া ২০২৫ সালের ২০ আগস্ট শাল্লা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের স্মারক নং-১৭৬-এর মাধ্যমে তার অনুকূলে জলমহালটির দখলনামা দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগে বলা হয়, দখলনামা পাওয়ার পর সরকারি বিধি বিধান ও প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী জলমহালটিকে মৎস্য আহরণের উপযোগী করার কাজ শুরু করেন চন্দ্র কুমার দাস। এ লক্ষ্যে বাঁশ ও গাছের কাটা দিয়ে বেড়া স্থাপনসহ প্রয়োজনীয় কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। বর্তমানে মৎস্য আহরণের প্রস্তুতির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলেও অভিযোগে দাবি করা হয়।
চন্দ্র কুমার দাসের অভিযোগ, গত ২৬ সেপ্টেম্বর ডুমরা গ্রামের দিলীপ চন্দ্র দাস ও তার অনুসারীরা ছোটপুরা বিল জলমহালে প্রবেশ করে জবরদখলের চেষ্টা করেন। এ সময় তারা তার স্থাপিত বাঁশ ও গাছের কাটা দিয়ে তৈরি বেড়া অপসারণ এবং জলমহালের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, এতে বাধা দিলে দিলীপ চন্দ্র দাস ও তার অনুসারীরা চন্দ্র কুমার দাস ও তার লোকজনকে ভয়ভীতি ও হুমকি দেন। পাশাপাশি পুনরায় লোকজন নিয়ে এসে জলমহালটি জবরদখলের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এতে বৈধ ইজারা, দখল ও মৎস্য আহরণ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। পুনরায় সংঘবদ্ধভাবে জলমহালে প্রবেশ করে জবরদখল বা মৎস্য আহরণের চেষ্টা করা হলে আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন অভিযোগকারী।
এ অবস্থায় বিষয়টি জরুরি ভিত্তিতে তদন্ত করে অভিযুক্তদের অবৈধভাবে জলমহালে প্রবেশ, জবরদখলের চেষ্টা এবং বৈধ ইজারা ও দখলে বাধা প্রদান থেকে বিরত রাখতে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানিয়েছেন চন্দ্র কুমার দাস। একই সঙ্গে জলমহালের শান্তিপূর্ণ দখল ও মৎস্য আহরণ কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও সহযোগিতারও আবেদন করেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে দিলীপ চন্দ্র দাস বলেন, বিলটা আমরা সিলেট বিভাগীয় কমিশনারের কাছ থেকে আনছি। তারা জেলা প্রশাসক মহোদয়ের কাছ থেকে এনেছে।
একই জায়গা জেলা প্রশাসক একটি সমিতিকে এবং সিলেট বিভাগীয় কমিশনার অপর একটি সমিতিকে কীভাবে দিয়েছেন এমন প্রশ্নের জবাবে দিলীপ চন্দ্র দাস বলেন, আমাদের যে পরিমাণ জায়গা দিয়েছেন, এর চেয়ে বেশি জায়গা তাদের দিয়েছেন। কারণ হচ্ছে, বিলটা অনেক জায়গা রয়েছে।
এ বিষয়ে শাল্লা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পিয়াস চন্দ্র দাস বলেন, শীঘ্রই উভয় পক্ষকে নিয়ে বসে বিষয়টি সমাধান করা হবে।