মরাচেলা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগে মামলা দায়ের

আপলোড সময় : ০৭-১০-২০২৬ ০৭:২৭:১০ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০৭-১০-২০২৬ ০৭:২৯:৫৪ অপরাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার::
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলায় নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে অবৈধভাবে নদীর পাড় কেটে কোটি কোটি টাকার বালু উত্তোলনের অভিযোগে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যসহ ৩৭ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। একই মামলায় আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
গত মঙ্গলবার (০৬ অক্টোবর) পরিবেশ অধিদপ্তর সুনামগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো: মোহাইমিনুল হক বাদী হয়ে দোয়ারাবাজার থানায় এ মামলা দায়ের করেন (যার কার্যালয় স্মারক নং- ০৮.১৬-০০)।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার নরসিংপুর ইউনিয়নের শ্রীপুর মৌজাভুক্ত সোনাপুর ও পূর্ব সোনাপুর এলাকায় প্রবাহিত মরাচেলা (সোনালী চেলা) নদী থেকে পরিবেশ অধিদপ্তরের কোনো প্রকার অনুমোদন বা ছাড়পত্র ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছিল।
তদন্তে প্রকাশ পায়, গত ২৫ আগস্ট থেকে ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন রাত ৮ টার পর থেকে গভীর রাত ও সকাল পর্যন্ত নদীর পাড় কেটে অবৈধভাবে বালু লোড আনলোড করা হয়। এ সময় আনুমানিক ২৫ লাখ ঘনফুট বালু উত্তোলন করা হয়, যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৫ কোটি টাকা। স্থানীয় বাসিন্দাদের ধারাবাহিক অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত ৫ অক্টোবর বেলা ১২টায় পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো: মোহাইমিনুল হক সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান এবং অবৈধ বালু উত্তোলনের সত্যতা পান। মামলার ৩৭ জন নামীয় আসামির মধ্যে জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গ রয়েছেন।
তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন মো: আব্দুল হেকিম চেয়ারম্যান (৬০), জয়নাল আবেদীন মেম্বার (৫২), জহুর মেম্বার (৫৫), ধন মিয়া মেম্বার (৬০), জিয়াউর রহমান বোষ (৩৪), মোহাম্মদ আলী (৩৫), রফিকুল ইসলাম (৫৫), ফজলুল ইসলাম (৪০), নিজাম উদ্দিন (৫২), ফরিদ মিয়া (৪৫), শরীফ মিয়া (৩৫), মনসুর আলী (৪০), সিদ্দিক মিয়া (৪৮), চেনু মিয়া (৪০), জামশেদ মিয়া (৬২), আলা উদ্দিন (৪০), ওমর (৪০), রফিক মিয়া (৩৮), কালাম ডাক্তার (৪৮), আইনুদ্দিন (৫০), সাদ্দাম মিয়া (৩৫), সানির মিয়া (২৫), মনির মিয়া (২২), জালাল মিয়া (৫৫), মাসুক মিয়া (৪৮), সমুর মিয়া (৪০), বসির মিয়া (২৫), রমজান মিয়া (৩৫), আবুল কালাম (৪০), নুরু মিয়া (৪৪), বকুল মিয়া (৩৫), মোঃ আলী (৪০), শফিকুল ইসলাম (৪৫) ও দ্বীন ইসলাম (৪৫) (সর্ব থানা-দোয়ারাবাজার), বুলবুল আহমদ (৪৮) ও লিটন মিয়া (৪০) (থানা- ছাতক) এবং মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ (৪৩) (থানা-কোম্পানিগঞ্জ, সিলেট)। মামলাটিতে ‘বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত-২০১০)’ এর ৬(ঙ), ১২ এবং ১৫(১) ধারার টেবিল ক্রমিক নং-৮ ও ১২ মোতাবেক অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার বাদী ও পরিবেশ অধিদপ্তর সুনামগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো: মোহাইমিনুল হক জানান, নদীর পাড় কেটে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করায় পরিবেশ ও এলাকার জীববৈচিত্র্যের অপূরণীয় ক্ষতি সাধিত হয়েছে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দ্রুত আদালতে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হবে। অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ ও পরিবেশ রক্ষায় অধিদপ্তরের এমন পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এলাকার সচেতন নাগরিক ও পরিবেশবাদীরা।

সম্পাদকীয় :

  • সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : মো. জিয়াউল হক
  • সম্পাদক ও প্রকাশক : বিজন সেন রায়
  • বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : মোক্তারপাড়া রোড, সুনামগঞ্জ-৩০০০।

অফিস :

  • ই-মেইল : dailysunamkantha@gmail.com
  • ওয়েবসাইট : www.sunamkantha.com