স্টাফ রিপোর্টার ::
তাহিরপুরে শিশুদের ক্রিকেট খেলার সময় অটোরিকশায় বল পড়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনার এক দিন পর আবারও উত্তেজনা দেখা দেয়। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে এক পক্ষের লোকজন সংঘর্ষের প্রস্তুতি নিচ্ছে - এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে মধ্য তাহিরপুর গ্রামের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে মাঠে জড়ো হন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তিনি নিজেও লাঠি হাতে উত্তেজিত লোকজনকে সরিয়ে দেন এবং দুই পক্ষের সঙ্গে কথা বলে শান্ত থাকার আহ্বান জানান।
পরে সংসদ সদস্য সংঘর্ষে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘর ও দোকানপাট পরিদর্শন করেন। তাঁর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয় এবং লোকজন ঘটনাস্থল থেকে সরে যান।
এর আগে বুধবার দুপুরে তাহিরপুর সদর ইউনিয়নের মধ্য তাহিরপুর এলাকায় পাঁচ গ্রামের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলা ওই সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হন। আহতদের মধ্যে চারজনের অবস্থা গুরুতর। তারা সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক দিন আগে শিশুদের ক্রিকেট খেলার সময় একটি বল অটোরিকশায় পড়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত হয়। পরে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে মাইকে ঘোষণা দিয়ে পাঁচ গ্রামের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। সংঘর্ষের সময় বাড়িঘর ও দোকানপাটে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ওঠে। একটি বসতঘরে আগুন দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে।
তাহিরপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জুনাব আলী বলেন, সংঘর্ষের পর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। বৃহস্পতিবার ভোর থেকে আবার সংঘর্ষের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। সকালে এমপি এলাকায় আসায় পরিস্থিতি শান্ত হয়। তিনি দুই পক্ষের সঙ্গে কথা বলে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। দ্রুত সবাইকে নিয়ে বিষয়টি নি®পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক আহমদ বলেন, সংঘর্ষের সময় পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। নতুন করে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে পুলিশ সতর্ক রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল বুধবার যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফেরেন। বৃহস্পতিবার সকালে উত্তেজিত লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে জড়ো হওয়ার খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান। তিনি নিজেও একটি লাঠি হাতে নিয়ে তরুণ-যুবকদের ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে দেন। পরে পৃথকভাবে দুই পক্ষের সঙ্গে কথা বলেন।
কামরুজ্জামান কামরুল বলেন, মঙ্গলবার রাতেই পুলিশ ও প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলেছিলাম। তারা আশ্বস্ত করেছিল, মারামারি হবে না। কিন্তু পরে সেটি থামানো যায়নি। এতে এলাকার সম্মান ক্ষুণ্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার আবার লোকজন মারামারির প্রস্তুতি নিয়েছিল। আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে সবার সঙ্গে কথা বলেছি। সবাই এখন শান্ত আছে। আশা করি, এ ধরনের ঘটনা আর ঘটবে না।