স্টাফ রিপোর্টার ::
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় সুধাংশু বিশ্বাস নামে এক ব্যক্তিকে বাঁশের লাঠি দিয়ে আঘাত করে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় রবিন বিশ্বাস (পলাতক) নামে এক যুবককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদ- দিয়েছেন আদালত। একই সাথে তাকে এক লাখ টাকা অর্থদ-, অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদ- দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, অপরাধে সরাসরি স¤পৃক্ততার অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় নিহত ব্যক্তির প্রতিবেশী চিনু রানী বিশ্বাসকে (পলাতক) খালাস প্রদান করা হয়েছে।
১১ অক্টোবর (রবিবার) সুনামগঞ্জের দায়রা জজ আদালতের বিচারক মুহাম্মদ হাবিবুল্লাহ এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে দ-িত আসামি রবিন বিশ্বাসের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের ৫ জুন আসামি রবিন বিশ্বাসের বোন শিপ্রা রানী বিশ্বাস ওড়না দিয়ে ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন। এ ঘটনার পর থেকে আসামির মা চিনু রানী বিশ্বাস প্রায়ই প্রতিবেশী সুধাংশু বিশ্বাসকে ‘অলক্ষ্মী (কাল)’ বলে অপবাদ দিতেন। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট দুপুর অনুমান ১২ টার সময় বিশ্বম্ভরপুর থানাধীন ফতেপুর ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর লখনা গ্রামে আসামি চিনু রানী বিশ্বাস ও তার ছেলে রবিন বিশ্বাস সুধাংশু বিশ্বাসকে উদ্দেশ্য করে গালিগালাজ শুরু করেন। সুধাংশু বিশ্বাস এর প্রতিবাদ করলে উভয়পক্ষের মধ্যে তর্কাতর্কি ও মারামারির সৃষ্টি হয়। স্থানীয় বাসিন্দা মহেন্দ্র বিশ্বাস, মঙ্গলা ও সজলা বিশ্বাসসহ অন্যান্য সাক্ষীরা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
এরপর সাক্ষী মহেন্দ্র বিশ্বাস সুধাংশু বিশ্বাসকে নিয়ে সেখান থেকে চলে যাওয়ার সময় চিনু রানী বিশ্বাস তার হাতে থাকা বাঁশের লাঠি ছেলে রবিন বিশ্বাসের হাতে তুলে দিয়ে সুধাংশু বিশ্বাসকে খুন করার নির্দেশ দেন। মায়ের প্ররোচনায় রবিন বিশ্বাস উক্ত লাঠি নিয়ে ধাওয়া করে সজলা বিশ্বাসের ঘরের সামনে সুধাংশু বিশ্বাসের মাথার পেছনে সজোরে আঘাত করেন। এতে সুধাংশু বিশ্বাস মাথায় গুরুতর জখম হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
গুরুতর আহত অবস্থায় উপস্থিত লোকজন সুধাংশু বিশ্বাসকে প্রথমে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০১৭ সালের ২৬ আগস্ট বিকেলে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
ঘটনার পর সিলেট কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ লাশের ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা গ্রহণ করে। পরবর্তীকালে বিশ্বম্ভরপুর থানার এসআই (নিঃ) সোহেল আহমেদ ২৭ আগস্ট ২০১৭ তারিখে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত হিসেবে রক্তমাখা বাঁশের লাঠি জব্দ করেন।
বিশ্বম্ভরপুর থানার মামলা নম্বর-০৭ (তারিখ: ২৯/০৮/২০১৭) থেকে উদ্ভাবিত এ দায়রা মামলা (নং-৩২৪/২০১৯)-এর দীর্ঘ শুনানি ও বিচারকাজ শেষে দ-বিধির ৩০২ ধারায় অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় আসামি রবিন বিশ্বাসকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদ- এবং দ-বিধির ৩০২/১১৪ ধারার অভিযোগে চিনু রানী বিশ্বাসকে নির্দোষ ঘোষণা করে খালাস দেওয়া হয়।
রায়ে বিচারক উল্লেখ করেন, দন্ডিত আসামি গ্রেফতারের পর বা আদালতে আত্মসমর্পণের দিন থেকে তার সাজা কার্যকর হবে।