সুনামগঞ্জ শহরের সড়কে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার বেপরোয়া ও নিয়ন্ত্রণহীন চলাচল এখন জননিরাপত্তার জন্য বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। শহরের প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে আবাসিক এলাকার অলিগলি - সবখানেই এসব যানবাহনের অবাধ চলাচল। বেপরোয়া গতি, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেক, যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা এবং ট্রাফিক আইন অমান্য করার প্রবণতা প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। পাশাপাশি যানজট, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও যাত্রীদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও নাগরিক দুর্ভোগ বাড়িয়ে তুলছে। এই পরিস্থিতি কোনোভাবেই উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।
ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা শহরজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাহন। স্বল্প দূরত্বে যাতায়াতের সহজ মাধ্যম হিসেবে এর চাহিদা রয়েছে। বিপুলসংখ্যক মানুষের জীবিকা এই পরিবহনের সঙ্গে যুক্ত। তাই অটোরিকশা চলাচল বন্ধ করে দেওয়াই সমস্যার সমাধান নয়; বরং প্রয়োজন সুনির্দিষ্ট নীতিমালা, কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ও কঠোর তদারকি। মানুষের যাতায়াতের সুবিধা এবং চালকদের জীবিকার বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, সুনামগঞ্জ শহরে অটোরিকশার সংখ্যা বাড়লেও সে অনুযায়ী নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। সাধারণ রিকশায় ব্যাটারি ও মোটর সংযোজন করে দ্রুতগতির যান হিসেবে সড়কে নামানো হচ্ছে। এসব যানবাহনের কাঠামোগত নিরাপত্তা, ব্রেকিং ব্যবস্থা ও গতিসীমা যথাযথভাবে নিশ্চিত করা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। একই সঙ্গে চালকদের দক্ষতা, প্রশিক্ষণ ও বৈধভাবে যান চালানোর যোগ্যতা যাচাই করাও জরুরি। বিশেষ করে অপ্রাপ্তবয়স্কদের হাতে এসব যানবাহনের স্টিয়ারিং তুলে দেওয়া বন্ধ করতে হবে।
আমরা মনে করি, শুধু মাঝেমধ্যে অভিযান চালিয়ে কয়েকটি অটোরিকশা আটক কিংবা ব্যাটারির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত পরিকল্পনা। প্রথমেই শহরে চলাচলকারী অটোরিকশার সংখ্যা নির্ধারণ করে নিবন্ধন ও পরিচিতি নম্বরের আওতায় আনতে হবে। অনুমোদিত যানবাহন ও চালকদের তালিকা তৈরি করতে হবে। যানবাহনের নিরাপত্তা পরীক্ষা, চালকদের প্রশিক্ষণ এবং নির্দিষ্ট গতিসীমা কার্যকর করার পাশাপাশি যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
শহরের আলফাত স্কয়ার, নতুনপাড়া, কালীবাড়ি, জামাইপাড়া, কাজীরপয়েন্ট, ষোলঘর ও হাসননগরসহ ব্যস্ত এলাকাগুলোতে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার করা প্রয়োজন। গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও বাজার এলাকায় নির্দিষ্ট যাত্রী ওঠানামার স্থান চিহ্নিত করতে হবে। পাশাপাশি ভাড়া নির্ধারণ ও আদায়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে যাত্রীদের সঙ্গে অসদাচরণ বন্ধেও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব, তবে এ ক্ষেত্রে চালক ও যাত্রীদেরও সচেতন হতে হবে। নিয়ম মেনে গাড়ি চালানো, নির্ধারিত স্থানে যাত্রী ওঠানামা করানো এবং ট্রাফিক নির্দেশনা অনুসরণ করা প্রত্যেক চালকের কর্তব্য।
আমরা চাই, সুনামগঞ্জের সড়কে অটোরিকশা চলবে, মানুষের জীবিকাও সুরক্ষিত থাকবে। কিন্তু কোনোভাবেই জননিরাপত্তাকে উপেক্ষা করে নয়। সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, পৌর কর্তৃপক্ষ ও ট্রাফিক বিভাগকে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে নিয়ন্ত্রণহীন এই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।