পাঁচ গ্রামের দুর্ভোগ লাঘবে সেতু নির্মাণ জরুরি

আপলোড সময় : ১৪-১০-২০২৬ ১২:২৩:৫২ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ১৪-১০-২০২৬ ১২:২৩:৫২ পূর্বাহ্ন
একটি সেতুর অভাবে বছরের পর বছর দুর্ভোগ পোহাচ্ছে দোয়ারাবাজার উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের পাঁচ গ্রামের মানুষ। বড়কাটা, বৈঠাখাই, এরুয়াখাই, তিলুরাকান্দি ও চকবাজার গ্রামের অন্তত ১৩ হাজার মানুষের যাতায়াতের অন্যতম ভরসা একটি ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো। আধুনিক যোগাযোগব্যবস্থার এই সময়ে এমন একটি সাঁকোর ওপর নির্ভর করে হাজারো মানুষের দৈনন্দিন জীবন চলা কেবল দুর্ভাগ্যজনক নয়, জনদুর্ভোগ নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীলতা নিয়েও প্রশ্ন তোলে। একটি সেতু মানুষের জীবনযাত্রাকে কতটা সহজ করতে পারে, তা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। অথচ সেতু না থাকায় এই পাঁচ গ্রামের মানুষকে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খাল পার হতে হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো দিয়ে বিদ্যালয়ে যাওয়া-আসার সময় সামান্য অসাবধানতাও বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। বর্ষা মৌসুমে খালের পানি ও ¯্রােত বাড়লে পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। সাঁকো ভেঙে গেলে বন্ধ হয়ে যায় স্বাভাবিক যাতায়াত। অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া, কৃষিপণ্য পরিবহন কিংবা জরুরি প্রয়োজনে মানুষের চলাচলও তখন কঠিন হয়ে পড়ে। সবচেয়ে হতাশাজনক বিষয় হলো, প্রায় ২০ বছর ধরে সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিভিন্ন সময়ে জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকে আশ্বাস মিললেও বাস্তবে তার প্রতিফলন ঘটেনি। প্রশ্ন হচ্ছে, একটি জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানে সেতু নির্মাণের দাবি বাস্তবায়নে এত দীর্ঘসূত্রতা কেন? মানুষের নিরাপদ চলাচলের মতো মৌলিক প্রয়োজন পূরণে আর কত দিন অপেক্ষা করতে হবে? গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের মূল উদ্দেশ্য মানুষের জীবনমান উন্নত করা এবং শিক্ষা, চিকিৎসা ও অর্থনৈতিক কর্মকা-ে সহজ যোগাযোগ নিশ্চিত করা। সেই বিবেচনায় এই স্থানে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ কোনো বিলাসিতা নয়, বরং সময়ের দাবি। সেতুটি নির্মিত হলে পাঁচ গ্রামের মানুষের যাতায়াতের দুর্ভোগ কমবে, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাওয়া নিরাপদ হবে এবং কৃষিপণ্য পরিবহনসহ দৈনন্দিন কর্মকা-ে গতি আসবে। একই সঙ্গে জরুরি চিকিৎসাসেবা পাওয়ার পথও সহজ হবে। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উপজেলা প্রকৌশলী জানিয়েছেন, সেতু নির্মাণের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তাবনা তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। এটি ইতিবাচক উদ্যোগ। তবে শুধু প্রস্তাবনা পাঠানো কিংবা আশ্বাস দেওয়াতেই দায়িত্ব শেষ হতে পারে না। প্রস্তাবনা প্রণয়ন, অনুমোদন, অর্থ বরাদ্দ এবং নির্মাণকাজ শুরুর প্রতিটি ধাপে কার্যকর অগ্রগতি নিশ্চিত করতে হবে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদেরও এ বিষয়ে উদ্যোগী ভূমিকা পালন করা প্রয়োজন। আমরা মনে করি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রুত সরেজমিনে পরিস্থিতি পরিদর্শন করে সেতু নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা নিরূপণ এবং বাস্তবায়নের সময়সীমা নির্ধারণ করা। একই সঙ্গে প্রকল্পটি অনুমোদন ও অর্থ বরাদ্দের জন্য কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। স্থায়ী সেতু নির্মাণের আগপর্যন্ত মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বর্তমান সাঁকোটিও মেরামত ও ঝুঁকিমুক্ত রাখার ব্যবস্থা জরুরি।

সম্পাদকীয় :

  • সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : মো. জিয়াউল হক
  • সম্পাদক ও প্রকাশক : বিজন সেন রায়
  • বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : মোক্তারপাড়া রোড, সুনামগঞ্জ-৩০০০।

অফিস :

  • ই-মেইল : dailysunamkantha@gmail.com
  • ওয়েবসাইট : www.sunamkantha.com