হাসপাতালে বহিরাগতদের উপদ্রব বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে

আপলোড সময় : ১৬-১০-২০২৬ ০৮:৫৩:১৭ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ১৬-১০-২০২৬ ০৮:৫৩:১৭ পূর্বাহ্ন
হাসপাতাল মানুষের জীবন রক্ষার শেষ ভরসাস্থলগুলোর একটি। অসুস্থতা কিংবা দুর্ঘটনায় আক্রান্ত হয়ে মানুষ যখন সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন, তখন তাদের প্রত্যাশা থাকে নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা। কিন্তু সেই হাসপাতালেই যদি বহিরাগতদের দৌরাত্ম্য, চিকিৎসাকাজে অননুমোদিত হস্তক্ষেপ এবং রোগীর স্বজনদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ ওঠে, তাহলে তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সুনামগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে বহিরাগতদের উপদ্রবের যে চিত্র উঠে এসেছে, তা হাসপাতালের নিরাপত্তা ও চিকিৎসাসেবার পরিবেশ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে। প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, হাসপাতালের জরুরি বিভাগে স্থানীয় কিছু যুবকের প্রভাব বিস্তার, চিকিৎসক ও নার্সদের কাজে হস্তক্ষেপ এবং রোগীদের বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাঠানোর অভিযোগ রয়েছে। এমনকি চিকিৎসাবিষয়ক প্রাতিষ্ঠানিক যোগ্যতা নেই - এমন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে রোগীর শরীরে ইনজেকশন প্রয়োগ ও ক্ষতস্থানে সেলাই দেওয়ার মতো সংবেদনশীল কাজে যুক্ত থাকার অভিযোগও উঠেছে। এসব অভিযোগ সত্য হলে তা কেবল হাসপাতালের শৃঙ্খলাভঙ্গ নয়, রোগীর জীবন ও নিরাপত্তার জন্যও বড় ধরনের ঝুঁকি। চিকিৎসা একটি বিশেষায়িত ও দায়িত্বশীল পেশা। প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ছাড়া কারও রোগীর শরীরে ইনজেকশন প্রয়োগ কিংবা ক্ষতস্থানে সেলাই দেওয়ার সুযোগ থাকা উচিত নয়। সামান্য অসতর্কতা কিংবা ভুল চিকিৎসায় রোগীর শারীরিক জটিলতা বাড়তে পারে, এমনকি জীবনহানির আশঙ্কাও তৈরি হতে পারে। তাই হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কে কোন দায়িত্ব পালন করছেন, তাঁদের যোগ্যতা কী এবং তারা যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনপ্রাপ্ত কি না - এসব বিষয় নিশ্চিত করা জরুরি। সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা অসহায় রোগীদের জিম্মি করে অর্থ আদায় কিংবা তাদের অন্য প্রতিষ্ঠানে যেতে প্ররোচিত করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা নিয়ে মানুষের আস্থা নষ্ট হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন দরিদ্র ও নি¤œআয়ের মানুষ। কারণ, তাদের পক্ষে বেসরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিকের ব্যয়বহুল চিকিৎসা বহন করা অনেক সময় সম্ভব হয় না। হাসপাতালকেন্দ্রিক কোনো দালালচক্র যদি ব্যক্তিস্বার্থে এই অসহায়ত্বকে পুঁজি করে, তবে তা কঠোরভাবে প্রতিরোধ করতে হবে। হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ও তত্ত্বাবধায়কের বক্তব্যে বহিরাগতদের প্রভাব বিস্তারের বিষয়টি উঠে এসেছে। জেলা আনসার কমান্ডারও এ বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এসব বক্তব্য ইতিবাচক। তবে শুধু বক্তব্য কিংবা সাময়িক অভিযান দিয়ে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। প্রয়োজন কার্যকর নজরদারি, নিয়মিত অভিযান, অপরাধের সুনির্দিষ্ট তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা। হাসপাতালের প্রতিটি প্রবেশপথে নিরাপত্তা জোরদার, দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক-নার্স ও অনুমোদিত কর্মীদের পরিচয় নিশ্চিত করা, জরুরি বিভাগে সিসিটিভি নজরদারি এবং অভিযোগ জানানোর কার্যকর ব্যবস্থা চালু করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে চিকিৎসকদের নির্বিঘেœ দায়িত্ব পালনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। কোনো কর্মী বা বহিরাগত প্রভাবশালী ব্যক্তির পরিচয়ে অনিয়ম করলে তাকেও জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। আমরা মনে করি, সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালকে বহিরাগত ও দালালমুক্ত করতে হাসপাতাল প্রশাসন, জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও আনসার কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদেরও এ বিষয়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে। অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করতে হবে এবং নির্দোষ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।

সম্পাদকীয় :

  • সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : মো. জিয়াউল হক
  • সম্পাদক ও প্রকাশক : বিজন সেন রায়
  • বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : মোক্তারপাড়া রোড, সুনামগঞ্জ-৩০০০।

অফিস :

  • ই-মেইল : dailysunamkantha@gmail.com
  • ওয়েবসাইট : www.sunamkantha.com