মধ্যনগর প্রতিনিধি ::
মধ্যনগর উপজেলার মহিষখলা দাখিল মাদ্রাসায় জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে গত ১০ বছর ধরে শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম চলে আসছে। জরুরি ভিত্তিতে ওই মাদ্রাসায় আধুনিক বহুতল ভবন নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ১৯ অক্টোবর (সোমবার) দুপুরে ওই মাদ্রাসার শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর ব্যানারে মাদ্রাসা চত্বরে এই মানবন্ধনের আয়োজন করা হয়। মানববন্ধনে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন মহিষখলা দাখিল মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. বিল্লাল হোসেন, বিদ্যুৎসাহী সদস্য মুক্তার হোসেন, উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান হযরত আলী, মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার মো. আনোয়ার হোসেন, শিক্ষার্থীর অভিভাবক আনিসুল হক, দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মীম আক্তার, অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী তাওহীদুজ্জামান, সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী তামান্না আক্তার প্রমুখ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মহিষখলা দাখিল মাদ্রাসায় ৫৫০জন শিক্ষার্থী ও ১৩জন শিক্ষক রয়েছেন। ওই মাদ্রাসায় তিনটি টিনসেড ভবন ও একতলা বিশিষ্ট দুটি পাকা ভবন রয়েছে। এর মধ্যে একটি টিনসেড ও একটি পাকা ভবন জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ।
মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক আল আমিন বলেন, আমাদের মাদ্রাসার ভবনের অবস্থা খুবই নাজুক থাকায় আমরা মনোযোগ সহকারে পাঠদান করাতে পারছি না। এ অবস্থায় শিক্ষার্থীরা সুষ্ঠু পাঠদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
মহিষখলা দাখিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, গত ১০ বছর ধরে ভবনের অবস্থা খুবই খারাপ। ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান কার্যক্রম চলে আসছে। একটি টিনসেড ঘর খুবই জরাজীর্ণ। দরজা-জানালাসহ ভবনের সব কাঠ নষ্ট হয়ে গেছে। আর একটি পাকা ভবনের ছাদ থেকে প্রায়ই পলেস্তারা খসে পড়ে। ভবনের বিভিন্ন স্থান রড বের হয়ে গেছে। যেকোনো সময় ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। আমি এই সমস্যার বিষয়টি সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মহোদয়, ইউএনও এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানিয়েছি। সংসদ সদস্য মহোদয় দ্রুত এ সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন বলে আমাদেরকে আশ্বস্ত করেছেন।
মধ্যনগর উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা ধর্মপাশার ইউএনও জনি রায় জানান, এই মাদ্রাসাটির ভবনজনিত সমস্যা সমাধানের বিষয়টি দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হবে।