শান্তিগঞ্জে রাইস গার্ডেন

এক মাঠেই ৫২ জাতের ধান, সেরা জাত বাছাইয়ের সুযোগ কৃষকের

আপলোড সময় : ২৩-১০-২০২৬ ০৯:১৯:২২ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ২৩-১০-২০২৬ ০৯:১৯:৪৬ পূর্বাহ্ন
বিশেষ প্রতিনিধি::
একই মাঠে ধানের ৫২ জাত, চোখের সামনে খুলছে সম্ভাবনার নতুন দুয়ার। কোথাও লম্বা গাছ, কোথাও শীষের গড়নে ভিন্নতা; কোনো জাত খরাসহিষ্ণু, কোনোটি টিকে থাকতে পারে জলমগ্ন পরিবেশেও। সারি সারি ধানগাছের পাশে নামফলক দেখে এক জাতের সঙ্গে অন্য জাতের বৈশিষ্ট্য মিলিয়ে নিচ্ছেন কৃষকেরা। তাঁদের কাছে এ যেন ধানের প্রদর্শনী নয়, নিজের জমির জন্য সেরা জাতটি খুঁজে নেওয়ার এক বাস্তব পাঠশালা। শান্তিগঞ্জ উপজেলার সদরপুর গ্রামে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) উদ্যোগে গড়ে তোলা হয়েছে ব্যতিক্রমী এই ‘রাইস গার্ডেন’। এলএসটিডি প্রকল্পের অর্থায়নে চলতি আমন মৌসুমে স্থাপিত এ প্রদর্শনীর লক্ষ্য, হাওরের জমি ও পরিবেশ উপযোগী ধানের জাত সম্পর্কে কৃষকদের ধারণা দেওয়া এবং উন্নত জাতের চাষে উৎসাহিত করা। সিলেট-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে গড়ে ওঠা এই প্রদর্শনীতে রয়েছে উচ্চফলনশীল, স্বল্পমেয়াদি, জিংকসমৃদ্ধ, সুগন্ধি ও উন্নত রান্নার বৈশিষ্ট্যস¤পন্ন বিভিন্ন জাতের ধান। পাশাপাশি রয়েছে খরা, বন্যা ও জলমগ্নতা সহনশীল জাত। প্রতিটি জাতের পাশে পরিচিতিমূলক সাইনবোর্ড থাকায় কৃষকেরা সরাসরি ধানের বৃদ্ধি, গাছের উচ্চতা ও শীষের গঠন পর্যবেক্ষণ করতে পারছেন। এতে নিজেদের জমির উপযোগী জাত বেছে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। কৃষক সাহেল বলেন, একসঙ্গে এত জাতের ধান জীবনে কখনো দেখিনি। অনেক ধানের নামও আগে শুনিনি। এখন চোখের সামনে এসব ধানের বেড়ে ওঠা দেখছি। এখান থেকে দেখে আমাদের জমির জন্য যেটা ভালো ও উচ্চফলনশীল হবে, সেটাই চাষের জন্য বেছে নেব। উপকারভোগী আরও অনেক কৃষকরা বলেন, আগে পরিচিত জাতের ধানই বেশি চাষ করতাম। এখানে এসে নতুন নতুন জাতের ধান সম্পর্কে জানতে পারছি। কোন ধানের ফলন ভালো, কোনটি আমাদের এলাকার জন্য উপযোগী, তা দেখে সিদ্ধান্ত নিতে পারব। ভালো জাত বেছে নিতে পারলে ফলন বাড়বে, আমরাও লাভবান হব। ধানের জাত প্রদর্শনের পাশাপাশি রোগবালাই দমন, সুষম সার প্রয়োগ, বায়ো-কোটেড ইউরিয়া ও সৌরবিদ্যুৎচালিত আলোক ফাঁদের ব্যবহার নিয়েও কাজ করছে ব্রির সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক কার্যালয়। কৃষিশ্রমিকের সংকট মোকাবিলায় রাইস ট্রান্সপ্লান্টার, উইডার ও কম্বাইন হারভেস্টারের ব্যবহারও প্রদর্শন করা হচ্ছে। পাশাপাশি কৃষকদের প্রশিক্ষণ, পরামর্শ ও বীজ সরবরাহে সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। প্রদর্শনীতে থাকা ধানের জাতগুলো হলো ব্রি ধান: ১১২, ১১১, ১১০, ১০৯, ১০৩, ৯৫, ৯৪, ৯৩, ৯১, ৯০, ৮০, ৭৯, ৭৮, ৭৭, ৭৬, ৭৫, ৭৩, ৭২, ৭১, ৭০, ৬৬, ৬২, ৫৭, ৫১, ৫২, ৫৩, ৫৪, ৫৬, ৪৯, ৪৬, ৪৪, ৩৮, ৩৯, ৪০, ৪১, ৩৭, ৩৪, ৩৩, ৩২, ৩০ ও ৩১, বিআর ধান ২৫, ২৩, ২২, ১১, ১০, ৫, ৪ ও ৩ ও হাইব্রিড ধান: ৪ ও ৬। হাওরের কৃষিতে প্রাকৃতিক প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে উৎপাদন বাড়ানো বড় চ্যালেঞ্জ। এমন পরিস্থিতিতে একই মাঠে বিভিন্ন জাতের ধান প্রদর্শন ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার কৃষকদের সামনে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। উপযোগী জাত নির্বাচন ও উন্নত চাষপদ্ধতি অনুসরণে কৃষকেরা উৎসাহিত হলে হাওরে ধানের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি চাষাবাদের ব্যয় কমানোর সুযোগও তৈরি হবে। ব্রি সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক কার্যালয়ের প্রধান ও ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. রেজওয়ান ভূঁইয়া বলেন, ৫২টি ধানের জাত নিয়ে স্থাপিত রাইস গার্ডেন থেকে কৃষকেরা এলাকার উপযোগী জাত নির্বাচন করতে পারবেন। পাশাপাশি সার, আগাছা ও রোগবালাই ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা চলছে। এসব উদ্যোগ হাওরে ধানের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও দেশের খাদ্যনিরাপত্তায় ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সম্পাদকীয় :

  • সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : মো. জিয়াউল হক
  • সম্পাদক ও প্রকাশক : বিজন সেন রায়
  • বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : মোক্তারপাড়া রোড, সুনামগঞ্জ-৩০০০।

অফিস :

  • ই-মেইল : dailysunamkantha@gmail.com
  • ওয়েবসাইট : www.sunamkantha.com