বাজারে স্বস্তি নেই, বাড়তি দামে দিশেহারা নিম্ন আয়ের মানুষ

আপলোড সময় : ২৪-১০-২০২৬ ০৮:৩১:০৭ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ২৪-১০-২০২৬ ০২:৩০:০৯ অপরাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার::
দিনমজুরের কাজ করে দিনে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা আয় করেন হেলাল মিয়া (৪৫)। তবে প্রতিদিন কাজ পান না। পাঁচ সদস্যের সংসারে তিন সন্তানকে নিয়ে তার দিন কাটে টানাপোড়েনে। যেদিন কাজ জোটে না, সেদিন পরিবারের খাবার ও অন্যান্য খরচ মেটাতে ধারদেনা করতে হয়, নয়তো প্রয়োজনীয় ব্যয় কমিয়ে কোনো মতে দিন পার করেন। এই অবস্থা শুধু হেলাল মিয়ার নয়, তার মতো খেটেখাওয়া মানুষের একই অবস্থা। বাজারে নিত্যপণ্যের চড়া দামে নাভিশ্বাস উঠেছে নিম্ন আয়ের মানুষের।
সুনামগঞ্জের শহরের কিচেন মার্কেটে গিয়ে দেখা যায়, মাছ ও সবজির বাজার চড়া। দামে শুনে অনেক ক্রেতা বিস্ময় প্রকাশ করছেন। মাছের বাজারে দেশীয় মাছের সরবরাহ কম থাকায় চাষের মাছ কিনতেও গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা।
২৩ অক্টোবর (শুক্রবার) বাজার ঘুরে দেখা যায়, মাছের বাজারে দেশীয় মাছের আকাল রয়েছে। ফলে চাষের মাছের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে ক্রেতাদের। বাজারে রুই ও কাতলা মাছ প্রতি কেজি ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা, পাঙ্গাস ১৭০ টাকা এবং অন্যান্য মাছ ২০০ থেকে ২৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
অন্যদিকে, সবজির বাজারে কিছু পণ্যের দাম আগের তুলনায় কমলেও অধিকাংশ সবজিই ক্রেতাদের নাগালের বাইরে বলে মনে করছেন অনেকে। বাজারে ফুলকপি ও শিম প্রতি কেজি ১২০ টাকা, কাঁচামরিচ ১০০ টাকা এবং টমেটো ১২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া অন্যান্য সবজির বেশির ভাগই ৮০ টাকার নিচে পাওয়া যাচ্ছে না।
কেনাকাটা করতে আসা শহরের বাসিন্দা সুহেল আহমেদ বলেন, বাজারে এসে নির্দিষ্ট বাজেটের মধ্যে কেনাকাটা করা এখন অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। আয় তো বাড়েনি, কিন্তু চাল, ডাল থেকে শুরু করে মাছ সবজি সবকিছুর দাম যেন আকাশছোঁয়া। হাওরাঞ্চলের জেলা হওয়া সত্ত্বেও বাজারে দেশীয় মাছ পাওয়া যাচ্ছে না, আর চাষের মাছের দামও সাধারণের নাগালের বাইরে। কৌশলে অসাধু ব্যবসায়ীরা দাম বাড়াচ্ছে। প্রশাসন যদি কঠোর ব্যবস্থা না নেয়, তবে সীমিত ও নিম্ন আয়ের মানুষের টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে।
বাজারের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে মাছ বিক্রেতা নাইম মিয়া বলেন, বাজারে দেশীয় মাছের সরবরাহ একেবারেই কম। হাওর ও নদী থেকে এখন আগের মতো মাছ আসছে না, তাই আড়তেই আমাদের বেশি দামে মাছ কিনতে হচ্ছে। বেশি দামে এনে অল্প লাভে বিক্রি করলেও ক্রেতাদের কাছে মাছের দাম বেশি ঠেকছে। সবজি বিক্রেতা রজাত মিয়া ও চরমু মিয়া তালুকদার জানান, পাইকারি বাজারে সবজির দাম কিছুটা কমলেও পরিবহন খরচ ও স্থানীয় সরবরাহের সমস্যার কারণে খুচরা বাজারে এর পুরোপুরি প্রভাব পড়ছে না। শীতের সবজি বাজারে পুরোপুরি নামলে দাম আরও কিছুটা কমতে পারে। আমরাও চাই সবজির দাম কমুক, কারণ দাম বেশি থাকলে সাধারণ ক্রেতারা কিনতে পারেন না, এতে আমাদের বিক্রিও অনেক কমে যায়।
সচেতন নাগরিকরা জানান, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের এমন অস্বাভাবিক দামে সীমিত আয়ের মানুষকে সংসারের খরচ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। মাছ ও সবজি কিনতে গিয়ে নির্ধারিত বাজেটের বাইরে অতিরিক্ত টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে ক্রেতাদের। সবজির দাম কিছুটা কমলেও মাছের বাজারে চড়া দাম এবং অধিকাংশ সবজির উচ্চমূল্যের কারণে বাজারে কেনাকাটায় স্বস্তি ফিরছে না। সাধারণ ক্রেতাদের জোরালো দাবি, বাজারে পণ্যের সরবরাহ বজায় রাখতে ও কৃত্রিম সংকট রুখতে স্থানীয় প্রশাসনের নিয়মিত বাজার মনিটরিং ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা জরুরি।

সম্পাদকীয় :

  • সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : মো. জিয়াউল হক
  • সম্পাদক ও প্রকাশক : বিজন সেন রায়
  • বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : মোক্তারপাড়া রোড, সুনামগঞ্জ-৩০০০।

অফিস :

  • ই-মেইল : dailysunamkantha@gmail.com
  • ওয়েবসাইট : www.sunamkantha.com