জালাল উদ্দিন নাসিম::
স্বাধীনতার ৫৫ বছর পেরিয়ে গেলেও সুনামগঞ্জের সুরমা নদীর ওপর নির্মিত হয়নি ধারারগাঁও-হালুয়ারঘাট সেতু। দীর্ঘদিন ধরে প্রতিশ্রুতির মধ্যেই আটকে আছে সেতু নির্মাণের উদ্যোগ। এতে সুনামগঞ্জ সদর ও দোয়ারাবাজার উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষকে পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খেয়া নৌকায় নদী পারাপার হতে হচ্ছে শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে। বিশেষ করে জরুরি রোগী নিয়ে বিপাকে পড়তে হচ্ছে স্থানীয়দের। অন্যদিকে, সুরমা নদীর উত্তরপাড়ের এলাকাগুলোতে প্রচুর শীতকালীন সবজি ও কৃষিপণ্য উৎপাদিত হলেও সরাসরি সড়ক যোগাযোগের অভাবে সেগুলো সহজে জেলা শহরে নেওয়া যায় না। ফলে ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন কৃষকরা। সম্ভাবনাময় এ অঞ্চলের কৃষি, ব্যবসা ও পর্যটনের বিকাশও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তাই দ্রুত ধারারগাঁও-হালুয়ারঘাট সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী। এদিকে, সেতুটি দ্রুত বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছেন সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নূরুল ইসলাম নূরুল। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ধারারগাঁও-হালুয়ারঘাট এলাকায় সুরমা নদীর ওপর সেতু না থাকায় সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার সুরমা, জাহাঙ্গীরনগর ও রঙ্গারচর ইউনিয়ন এবং দোয়ারাবাজার উপজেলার লক্ষ্মীপুর ও বাংলাবাজার ইউনিয়নের প্রায় লক্ষাধিক মানুষকে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। নদী পারাপারের জন্য খেয়া নৌকার ওপর নির্ভর করতে হয় তাঁদের। এতে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি কর্মজীবী মানুষ ও সাধারণ যাত্রীদেরও সময় ও অর্থ ব্যয় হচ্ছে। খেয়া নৌকা না পেলে কিংবা পারাপারে দেরি হলে ভোগান্তি আরও বেড়ে যায়। বিকল্প সড়কপথ না থাকায় গভীর রাতে গর্ভবতী নারী ও জরুরি রোগীদের হাসপাতালে নেওয়ার ক্ষেত্রেও তৈরি হয় জটিলতা। ফলে যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে ঝুঁকির মুখে পড়তে হয় স্থানীয়দের। এলাকাবাসীর অভিযোগ আগে অনেকেই সেতু নির্মাণের আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু পর এ বিষয়ে কার্যকর অগ্রগতি দেখা যায় না। দীর্ঘদিনের এ দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে তারা দ্রুত সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছেন। স্থানীয় বাসিন্দা মো. শওকত আলী বলেন, কৃষিপণ্য নিয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে আমাদের অনেক সময় নষ্ট হয়। নানা সমস্যার মুখে পড়তে হয়। বিভিন্ন সময় জনপ্রতিনিধি ও কর্মকর্তারা সেতু নির্মাণের আশ্বাস দিয়েছেন, কিন্তু সেতু আর হচ্ছে না। খেয়া নৌকা মিস হলে ৩০ থেকে ৪০ মিনিট অপেক্ষা করতে হয়। বিকল্প রাস্তা না থাকায় রোগী নিয়ে অনেক সময় বিপদে পড়তে হয়। উত্তরপাড়ের মানুষের পক্ষ থেকে বর্তমান সংসদ সদস্যের কাছে আমাদের একটাই দাবি- তিনি যেন দ্রুত সেতুটি নির্মাণের ব্যবস্থা করেন। সুরমা ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নং ওয়ার্ডের সদস্য মো. সুরুজ মিয়া বলেন, আমি হালুয়ারঘাট এলাকার বাসিন্দা। সুরমা নদীর ওপর সেতু নির্মাণ আমাদের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি। বর্তমান সংসদ সদস্য যদি বিষয়টিতে সুদৃষ্টি দেন এবং দ্রুত সেতুটি নির্মাণের উদ্যোগ নেন, তাহলে এলাকার মানুষের জীবনযাত্রার ব্যাপক উন্নতি হবে। বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আফাজ উদ্দিন বলেন, সুরমা নদীর উত্তরপাড়ের মানুষের জন্য সেতুটি অত্যন্ত জরুরি। আমরা সংসদ সদস্যের কাছে আকুল আবেদন জানাই, যত দ্রুত সম্ভব যেন সেতুটি নির্মাণ করা হয়। এদিকে, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সেতুটি নির্মাণে উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নূরুল ইসলাম নূরুল। তিনি বলেন, সুনামগঞ্জের ধারারগাঁও-হালুয়ারঘাট সেতুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি নির্মিত হলে উত্তরপাড়ের লক্ষাধিক মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব হবে। পাশাপাশি এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষি ও পর্যটনের বিকাশ ঘটবে। জাতীয় সংসদে গুরুত্বপূর্ণ এ সেতুটি নির্মাণের বিষয়ে কথা বলেছি। আশা করছি, খুব দ্রুত সুরমার উত্তরপাড়ের মানুষের স্বপ্নের সেতুটি বাস্তবায়িত হবে। সেতুটি নির্মাণের বিষয়ে জানতে চাইলে সুনামগঞ্জের স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, হালুয়ারঘাট-ধারারগাঁও সেতুর প্রকল্পের কাজ চলছে। ১১টি সেতু নিয়ে একটি নতুন প্রকল্প তৈরি করা হবে। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে। তারা জানিয়েছেন, ডিজাইনের কাজ চলছে। আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে নতুন প্রকল্পটি অনুমোদন হতে পারে। অনুমোদন পেলেই কাজ বাস্তবায়নের নির্দেশনা দেওয়া হবে।
স্বাধীনতার ৫৫ বছর পেরিয়ে গেলেও সুনামগঞ্জের সুরমা নদীর ওপর নির্মিত হয়নি ধারারগাঁও-হালুয়ারঘাট সেতু। দীর্ঘদিন ধরে প্রতিশ্রুতির মধ্যেই আটকে আছে সেতু নির্মাণের উদ্যোগ। এতে সুনামগঞ্জ সদর ও দোয়ারাবাজার উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষকে পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খেয়া নৌকায় নদী পারাপার হতে হচ্ছে শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে। বিশেষ করে জরুরি রোগী নিয়ে বিপাকে পড়তে হচ্ছে স্থানীয়দের। অন্যদিকে, সুরমা নদীর উত্তরপাড়ের এলাকাগুলোতে প্রচুর শীতকালীন সবজি ও কৃষিপণ্য উৎপাদিত হলেও সরাসরি সড়ক যোগাযোগের অভাবে সেগুলো সহজে জেলা শহরে নেওয়া যায় না। ফলে ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন কৃষকরা। সম্ভাবনাময় এ অঞ্চলের কৃষি, ব্যবসা ও পর্যটনের বিকাশও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তাই দ্রুত ধারারগাঁও-হালুয়ারঘাট সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী। এদিকে, সেতুটি দ্রুত বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছেন সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নূরুল ইসলাম নূরুল। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ধারারগাঁও-হালুয়ারঘাট এলাকায় সুরমা নদীর ওপর সেতু না থাকায় সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার সুরমা, জাহাঙ্গীরনগর ও রঙ্গারচর ইউনিয়ন এবং দোয়ারাবাজার উপজেলার লক্ষ্মীপুর ও বাংলাবাজার ইউনিয়নের প্রায় লক্ষাধিক মানুষকে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। নদী পারাপারের জন্য খেয়া নৌকার ওপর নির্ভর করতে হয় তাঁদের। এতে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি কর্মজীবী মানুষ ও সাধারণ যাত্রীদেরও সময় ও অর্থ ব্যয় হচ্ছে। খেয়া নৌকা না পেলে কিংবা পারাপারে দেরি হলে ভোগান্তি আরও বেড়ে যায়। বিকল্প সড়কপথ না থাকায় গভীর রাতে গর্ভবতী নারী ও জরুরি রোগীদের হাসপাতালে নেওয়ার ক্ষেত্রেও তৈরি হয় জটিলতা। ফলে যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে ঝুঁকির মুখে পড়তে হয় স্থানীয়দের। এলাকাবাসীর অভিযোগ আগে অনেকেই সেতু নির্মাণের আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু পর এ বিষয়ে কার্যকর অগ্রগতি দেখা যায় না। দীর্ঘদিনের এ দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে তারা দ্রুত সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছেন। স্থানীয় বাসিন্দা মো. শওকত আলী বলেন, কৃষিপণ্য নিয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে আমাদের অনেক সময় নষ্ট হয়। নানা সমস্যার মুখে পড়তে হয়। বিভিন্ন সময় জনপ্রতিনিধি ও কর্মকর্তারা সেতু নির্মাণের আশ্বাস দিয়েছেন, কিন্তু সেতু আর হচ্ছে না। খেয়া নৌকা মিস হলে ৩০ থেকে ৪০ মিনিট অপেক্ষা করতে হয়। বিকল্প রাস্তা না থাকায় রোগী নিয়ে অনেক সময় বিপদে পড়তে হয়। উত্তরপাড়ের মানুষের পক্ষ থেকে বর্তমান সংসদ সদস্যের কাছে আমাদের একটাই দাবি- তিনি যেন দ্রুত সেতুটি নির্মাণের ব্যবস্থা করেন। সুরমা ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নং ওয়ার্ডের সদস্য মো. সুরুজ মিয়া বলেন, আমি হালুয়ারঘাট এলাকার বাসিন্দা। সুরমা নদীর ওপর সেতু নির্মাণ আমাদের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি। বর্তমান সংসদ সদস্য যদি বিষয়টিতে সুদৃষ্টি দেন এবং দ্রুত সেতুটি নির্মাণের উদ্যোগ নেন, তাহলে এলাকার মানুষের জীবনযাত্রার ব্যাপক উন্নতি হবে। বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আফাজ উদ্দিন বলেন, সুরমা নদীর উত্তরপাড়ের মানুষের জন্য সেতুটি অত্যন্ত জরুরি। আমরা সংসদ সদস্যের কাছে আকুল আবেদন জানাই, যত দ্রুত সম্ভব যেন সেতুটি নির্মাণ করা হয়। এদিকে, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সেতুটি নির্মাণে উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নূরুল ইসলাম নূরুল। তিনি বলেন, সুনামগঞ্জের ধারারগাঁও-হালুয়ারঘাট সেতুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি নির্মিত হলে উত্তরপাড়ের লক্ষাধিক মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব হবে। পাশাপাশি এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষি ও পর্যটনের বিকাশ ঘটবে। জাতীয় সংসদে গুরুত্বপূর্ণ এ সেতুটি নির্মাণের বিষয়ে কথা বলেছি। আশা করছি, খুব দ্রুত সুরমার উত্তরপাড়ের মানুষের স্বপ্নের সেতুটি বাস্তবায়িত হবে। সেতুটি নির্মাণের বিষয়ে জানতে চাইলে সুনামগঞ্জের স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, হালুয়ারঘাট-ধারারগাঁও সেতুর প্রকল্পের কাজ চলছে। ১১টি সেতু নিয়ে একটি নতুন প্রকল্প তৈরি করা হবে। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে। তারা জানিয়েছেন, ডিজাইনের কাজ চলছে। আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে নতুন প্রকল্পটি অনুমোদন হতে পারে। অনুমোদন পেলেই কাজ বাস্তবায়নের নির্দেশনা দেওয়া হবে।