নিয়ম মানেন না ঠিকাদার

তলবের পরও যাননি প্রকল্প এলাকায়, ক্ষোভে ফুঁসছেন এলাকাবাসী

আপলোড সময় : ২৯-১০-২০২৬ ০৮:৫৮:১২ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ২৯-১০-২০২৬ ০৮:৫৮:১২ পূর্বাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার :: বিশ্বম্ভরপুরে ফুটবল খেলা উদ্বোধন করে যাবার সময় সুনামগঞ্জ-বিশ্বম্ভরপুর সড়কের কাজে অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের স্থানীয়দের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঠিকাদারের প্রতিনিধিকে তলব করায় সুনামগঞ্জ-৪ আসনের এমপি অ্যাডভোকেট নূরুল ইসলামের বিরুদ্ধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ ক্ষোভে ফুঁসছেন স্থানীয়রা। বুধবার দুপুরে এমপি সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রতিনিধিদের নিয়ে সরেজমিন কাজ দেখতে যাওয়ার আগে ঠিকাদার ও তাদের প্রতিনিধিদের ডাকার পর তারা যায়নি। এসময় উপস্থিত নেতাকর্মীসহ স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ৬টি সেতু ও অ্যাপ্রোচের কাজে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ করেন তারা। সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বিশ্বম্ভরপুর বিভিন্ন সড়কে মেসার্স বদরুল ইসলাম, মেসার্স মোস্তফা কামালসহ বিভিন্ন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান প্রায় ৮৬ কোটি ৬০ লক্ষ টাকার কাজ বাস্তবায়ন করছে। ২০২৪ সাল থেকে কাজ শুরু হলেও যথাসময়ে কাজ করতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার, প্রাক্কলন অনুযায়ী কাজ না করারও অভিযোগ রয়েছে। গত ২৭ অক্টোবর সুনামগঞ্জ-৪ আসনের এমপি ও জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নূরুল ইসলাম নূরুল নির্বাচনী এলাকা বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার রতারগাঁও উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে একটি ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করতে যান। এসময় স্থানীয় লোকজন জানান, ঠিকাদার কাজে বিলম্বের পাশাপাশি অনিয়ম ও দুর্নীতি করছে এবং অ্যাপ্রোচের পাইলিং দেয়ালের কাজ ধসে গেছে। এমপি ঘটনাস্থলে গিয়ে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা দেখতে পেয়ে ঠিকাদারের প্রতিনিধি ও ঠিকাদারকে (বুধবার) প্রকল্পস্থলে সড়ক বিভাগের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে থাকার আহ্বান জানান। এসময় কাজে বিলম্ব, অনিয়ম ও দুর্নীতি করায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে সড়ক বিভাগের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেন। বুধবার দুপুরে এমপি আবারও সড়ক বিভাগের সংশ্লিষ্টদের নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। সেখানে শত শত মানুষ কাজ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং কাজের গুণগত মান ভালো হচ্ছেনা বলে অভিযোগ করেন। তবে ঠিকাদার ও তাদের প্রতিনিধিকে ডাকা হলেও তারা কেউ যায়নি। ঠিকাদার শফিকুল ইসলামের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি কল রিসিভ করেননি। সুনামগঞ্জ সড়ক বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী শামীম হোসেন বলেন, ২০২৪ সালে কাজ শুরু হয়েছে। কাজের অগ্রগতি ৫০ ভাগ। যথাসময়ে কাজ শেষ করতে না পারায় মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। আগামী ডিসেম্বরে মেয়াদ শেষ হবে। কাজে ঠিকাদারদের ত্রুটি রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা ঠিকাদার ও তাদের লোকদের যথাযথভাবে কাজ করতে বলেছি। ত্রুটিগুলো ধরিয়ে দিয়েছি। সুনামগঞ্জ-৪ আসনের এমপি অ্যাডভোকেট নূরুল ইসলাম নূরুল বলেন, আমার নির্বাচনী এলাকায় একটি খেলা উদ্বোধন করতে গিয়ে স্থানীয়রা আমাকে জনগুরুত্বপূর্ণ সেতু ও অ্যাপ্রোচের কাজে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ করেন। সরেজমিনে গিয়ে আমরা সেই ত্রুটি দেখতে পেয়ে ঠিকাদার, তাদের প্রতিনিধি ও সড়ক বিভাগের সংশ্লিষ্টদের ডেকেছিলাম। কাজের মান সন্তোষজনক না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলাম। আজ তাদেরকে প্রকল্প এলাকায় আসার কথা বলেছিলাম। কিন্তু তারা আসাতো দূরের কথা, আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা চাঁদাবাজির অভিযোগ করেছে। তিনি বলেন, জনগণের জন্য কাজ আদায় করতে গিয়ে আমার বিরুদ্ধে স্ক্যান্ডাল রটিয়ে আমাকে দমানো যাবেনা।

সম্পাদকীয় :

  • সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : মো. জিয়াউল হক
  • সম্পাদক ও প্রকাশক : বিজন সেন রায়
  • বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : মোক্তারপাড়া রোড, সুনামগঞ্জ-৩০০০।

অফিস :

  • ই-মেইল : dailysunamkantha@gmail.com
  • ওয়েবসাইট : www.sunamkantha.com