ফাটল-ভাঙনে বেহাল ধর্মপাশার কালীজানা সেতু, পারাপারে জীবনের ঝুঁকি

আপলোড সময় : ৩০-১০-২০২৬ ০৮:৪৩:২১ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ৩০-১০-২০২৬ ০৯:১৩:৩১ পূর্বাহ্ন
বিশেষ প্রতিনিধি::
সেতু আছে, কিন্তু নেই নিরাপদে চলাচলের নিশ্চয়তা। কোথাও ফাটল, কোথাও ভাঙা রেলিং, আবার একাংশ হেলে পড়েছে। সংযোগ সড়কও ক্ষতিগ্রহমশ। এমন বেহাল অবস্থায় প্রায় তিন দশক ধরে পড়ে আছে ধর্মপাশা উপজেলার সেলবরষ ইউনিয়নের কালীজানা নদীর ওপর নির্মিত সেতুটি। এতে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন আশপাশের ১২টি গ্রামের ৫ থেকে ৬ হাজার মানুষ। বিশেষ করে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের প্রতিদিনই ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। সেতু পারাপারে আতঙ্কে অনেকে বেছে নিচ্ছেন নৌকা কিংবা সাঁতরে নদী পার হওয়ার পথ। উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কার্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সেলবরষ ইউনিয়নের কালীজানা নদীর ওপর ১৯৯৫-৯৬ অর্থবছরে সেতুটি নির্মাণ করা হয়। নির্মাণের পাঁচ বছরের মধ্যেই সেতুর বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দেয়। ভেঙে যায় দুই পাশের রেলিংয়ের বেশ কিছু অংশ। এরপর ২০০৪ সালের ভয়াবহ বন্যায় সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়কের মাটি সরে গিয়ে কাঠামোটি আরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দীর্ঘদিনেও প্রয়োজনীয় সংস্কার না হওয়ায় বর্তমানে সেতুটির একটি অংশ হেলে পড়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুর বিভিন্ন স্থানে ফাটল রয়েছে। দুই পাশের ভাঙা রেলিংয়ের অংশ সেতুর ওপর পড়ে আছে। সংযোগ সড়কেরও বিভিন্ন অংশে মাটি নেই। সেতুটির এমন নাজুক অবস্থায় যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। গাবী গ্রামের মোশারফ মিয়া ও নূর মিয়া এবং মির্জাপুর গ্রামের সোহেল মিয়া ও তাজ্জত আলীসহ একাধিক বাসিন্দা জানান, নির্মাণের সময় নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করায় সেতুটি অল্প সময়ের মধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করে। এরপর প্রায় ৩০ বছর পেরিয়ে গেলেও সেতুটি সংস্কার কিংবা নতুন করে নির্মাণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই তাঁদের চলাচল করতে হচ্ছে। প্রয়োজনীয় কাজে বিকল্প পথে যাতায়াত করতে গিয়ে বাড়তি সময় ও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন তাঁরা। শিংপুর গ্রামের ষাটোর্ধ্ব কৃষক মো. ইসলাম উদ্দিন আক্ষেপ করে বলেন, বিরিজডা ইভাবে পইরা থাকলেও ঠিক করনের লাইগ্যা কেউ খবর লয়না। অহন ইডার উফর দিয়া চলাচল করন যায় না। এই বিরিজডা ভাইঙ্গা কহন যে এইহানে একটা নতুন বিরিজ অইবো, তা ওপরওয়ালাই ভালো জানেন। সেলবরষ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান গোলাম ফরিদ খোকা বলেন, ইউনিয়নের গাবী, শরিশ্যাম, মির্জাপুর, বাহিরকান্দা, নয়াপাড়া, আহম্মদপুর, সৈয়দপুর, মুদাহরপুর, শিংপুর, বগারপাচুর, খয়েরদিরচর ও ভাটকপুরসহ আশপাশের এলাকার মানুষ এই সেতুর কারণে চরম দুর্ভোগে রয়েছেন। তিনি বলেন, এলাকার প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষের যাতায়াতের সহজ পথ ধর্মপাশা সড়ক হয়ে বারহাট্টা ফাঁড়ি সড়ক পর্যন্ত। এ সড়কের মাঝামাঝি কালীজানা নদীর ওপর সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে আছে। বিভিন্ন সময়ে সামান্য সংস্কার করা হলেও তাতে সমস্যার সমাধান হয়নি। ফলে প্রয়োজনীয় কাজে এলাকার বাসিন্দাদের বাদশাগঞ্জ অথবা বারহাট্টার কাকুড়া বাজার হয়ে ঘুরে যাতায়াত করতে হচ্ছে। জনদুর্ভোগ লাঘবে সেতুটি নতুন করে নির্মাণের জন্য এলজিইডির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন ইউপি চেয়ারম্যান। এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ শাহাব উদ্দিন বলেন, সেতুটি নতুন করে নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য সম্প্রতি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জনি রায় বলেন, সেতুটি এভাবে পড়ে থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক। বিষয়টি নিয়ে তিনি শিগগিরই সংশ্লিষ্ট বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলবেন জানান।

সম্পাদকীয় :

  • সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : মো. জিয়াউল হক
  • সম্পাদক ও প্রকাশক : বিজন সেন রায়
  • বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : মোক্তারপাড়া রোড, সুনামগঞ্জ-৩০০০।

অফিস :

  • ই-মেইল : dailysunamkantha@gmail.com
  • ওয়েবসাইট : www.sunamkantha.com