তাহিরপুরে সাড়ে ৩ কোটি টাকার পানি সরবরাহ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগে মানববন্ধন

আপলোড সময় : ০১-১১-২০২৬ ০৮:৪৮:০০ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ০১-১১-২০২৬ ০৮:৪৮:০০ পূর্বাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার :: তাহিরপুরে সাড়ে ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্পের কাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং নির্ধারিত মাপের পরিবর্তে ছোট ব্যাসের পাইপ বসানোর অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এসব অনিয়মের প্রতিবাদে শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার বাদাঘাট বাজারে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী ও সচেতন নাগরিকেরা। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ডিপিএইচই) অধীনে গ্রামীণ ও পৌর এলাকায় নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্পের আওতায় বাদাঘাট ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে এ কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা। এর মাধ্যমে এলাকার প্রায় ৩০০ পরিবারকে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে। মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, প্রকল্পের পাইপলাইন ও অবকাঠামো নির্মাণে সরকারি কার্যাদেশ ও নির্ধারিত শিডিউল অনুসরণ করা হচ্ছে না। নির্মাণাধীন পানির ট্যাংকে নিম্নমানের ইট, বালু ও পাথর ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি ৬ ইঞ্চি ব্যাসের পাইপ ব্যবহারের কথা থাকলেও অধিকাংশ স্থানে ৩ ও ২ ইঞ্চি ব্যাসের পাইপ বসানো হচ্ছে। এমনকি পাইপ স্থাপনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়মে ফিল্টার বালু ব্যবহার না করে তড়িঘড়ি করে মাটির নিচে পাইপ পুঁতে ফেলা হচ্ছে। বক্তারা বলেন, এভাবে নিম্নমানের কাজ করা হলে প্রকল্প শেষ হওয়ার আগেই এর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেবে। এতে এলাকার মানুষ কাক্সিক্ষত নিরাপদ পানির সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি সরকারের বিপুল অর্থ অপচয়ের আশঙ্কা রয়েছে। তাঁরা অবিলম্বে প্রকল্পের কাজ তদন্ত করে অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা। এর আগে গত ১৮ অক্টোবর বাদাঘাট গ্রামের বাসিন্দা আমির শাহ প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত শিডিউল অনুযায়ী না হওয়ার অভিযোগ তুলে তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। মানববন্ধনে বক্তব্য দেন বাদাঘাট বাজার বণিক সমিতির সভাপতি ও বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম সিকদার, জেলা যুবদল নেতা আজিজুর রহমান, উপজেলা বিএনপি নেতা আমির শাহ, জেলা যুবদল নেতা মাহবুব মল্লিক, উপজেলা যুবদল নেতা হাবিবুর রহমান, সাকিব ও শাহিন আলম। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বাস্তবায়ন মেয়াদের এ প্রকল্পের আওতায় বাদাঘাট ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ৩০০ পরিবারকে নিরাপদ পানি সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পের কাজ পেয়েছে আদেল এন্টারপ্রাইজ। নিয়ম অনুযায়ী পাইপলাইন স্থাপনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত গভীরতায় পাইপ বসানোর পাশাপাশি পাইপের নিচে ও ওপরে ছয় ইঞ্চি করে ফিল্টার বালু দেওয়ার বিধান রয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আদেল এন্টারপ্রাইজের ঠিকাদার মিজান বলেন, এ কাজটি প্রথমে অন্য একজন ঠিকাদার পেয়েছিলেন। তিনি কাজ না করেই চলে যাওয়ার পর আমি কাজটি পেয়েছি। যেসব অভিযোগ করা হচ্ছে, তা সঠিক নয়। শিডিউল অনুযায়ীই পাইপ বসানোর কাজ করছি। তবে গর্তের অধিকাংশ স্থানে আগে থেকেই বালু থাকায় সেখানে নতুন করে ফিল্টার বালু দেওয়া হয়নি। অভিযোগকারীদের কেউ কেউ বালু, পাথর ও ইট সরবরাহ করতে চেয়েছিলেন। তা না পারায় এখন অভিযোগ করছেন। এ বিষয়ে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী আল আমিন বলেন, কাজে নিয়মবহির্ভূত কোনো কিছু করা হলে কিংবা গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সম্পাদকীয় :

  • সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : মো. জিয়াউল হক
  • সম্পাদক ও প্রকাশক : বিজন সেন রায়
  • বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : মোক্তারপাড়া রোড, সুনামগঞ্জ-৩০০০।

অফিস :

  • ই-মেইল : dailysunamkantha@gmail.com
  • ওয়েবসাইট : www.sunamkantha.com