জন্মান্ধ স্বামী, এক চোখে দেখেন স্ত্রী, মানুষের সাহায্যে চলে সংসার

আপলোড সময় : ০৩-১১-২০২৬ ০১:৪২:১৬ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ০৩-১১-২০২৬ ০১:৪৫:১৫ পূর্বাহ্ন
প্রীতম দাস::
সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার চাকুয়া গ্রামের শৈলেন সূত্রধর জন্ম থেকেই দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। তাঁর স্ত্রী সুজতা সূত্রধরও এক চোখে দেখতে পান না। সংসারে রয়েছে দুই সন্তান। শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে স্বাভাবিকভাবে কাজ করে উপার্জনের সামর্থ্য নেই তাঁদের। ফলে মানুষের কাছে সাহায্য চেয়েই কোনোমতে চলছে চার সদস্যের সংসার। চরম অভাব অনটনের মধ্যেও পরিবারটির কষ্ট যেন দেখার কেউ নেই। প্রায় ১২ বছর আগে শাল্লা উপজেলার আঙাউড়া গ্রামের কৃষ্ণ সূত্রধরের মেয়ে সুজতা সূত্রধরের সঙ্গে বিয়ে হয় শৈলেন সূত্রধরের। পরবর্তীতে তাঁদের সংসারে জন্ম নেয় দুই সন্তান। কিন্তু স্বামী-স্ত্রী দুজনই শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় সন্তানদের নিয়ে তাঁদের জীবন কাটছে সীমাহীন কষ্টে। পরিবারের ভরণপোষণ, সন্তানদের দেখাশোনা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ জোগাতে প্রতিনিয়ত হিমশিম খেতে হচ্ছে তাঁদের। শৈলেন সূত্রধর প্রতিবন্ধী ভাতা পেলেও তাঁর স্ত্রী সুজতা সূত্রধর এখনো ভাতা পাননি। এ জন্য সমাজসেবা অধিদপ্তরে আবেদন করলেও দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষায় রয়েছেন তিনি। এক পরিবারের দুজন প্রতিবন্ধী মানুষের মধ্যে একজন সরকারি ভাতা পেলেও অন্যজন এখনো সেই সুবিধার বাইরে থাকায় পরিবারটির সংকট আরও প্রকট হয়ে উঠেছে। শৈলেন সূত্রধরের মা ছেলের সংসারের দুরবস্থার কথা তুলে ধরে বলেন, আমরা অসহায় গরিব মানুষ। শৈলেন জন্ম থেকেই অন্ধ। বিয়ে করিয়েছি, কিন্তু তার বউও এক চোখে দেখে। তার বউয়ের এখনো ভাতা হয়নি। বউয়ের ভাতা হলে এবং সরকার ও দেশ-বিদেশের হৃদয়বান মানুষ যদি সাহায্য সহযোগিতা করেন, তাহলে হয়তো সংসারটা ভালোভাবে চলত। প্রতিবেশী বাদল সূত্রধর বলেন, শৈলেন একজন জন্মান্ধ মানুষ। মানুষের কাছে চেয়ে সংসার চালায়। তার বউয়েরও একই অবস্থা। বউয়ের ভাতা ও সাহায্য-সহযোগিতা পেলে সংসারটা হয়তো ভালোভাবে চলত। এ বিষয়ে শাল্লা উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা বিশ্বপতি চক্রবর্তী বলেন, সুজতা সূত্রধরের ভাতার জন্য আবেদন করা হয়েছে। খুব শিগগিরই তিনি ভাতা পাবেন। জন্মান্ধ স্বামী ও এক চোখে দৃষ্টিশক্তিস¤পন্ন স্ত্রীকে নিয়ে অসহায় এই পরিবারের এখন একটাই প্রত্যাশা সরকারি সহায়তার পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ও হৃদয়বান মানুষ তাঁদের পাশে দাঁড়াবেন। তাঁদের সহযোগিতায় দুই সন্তানের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার পাশাপাশি একটু স্বস্তির জীবন ফিরে পাবে পরিবারটি।

সম্পাদকীয় :

  • সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : মো. জিয়াউল হক
  • সম্পাদক ও প্রকাশক : বিজন সেন রায়
  • বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : মোক্তারপাড়া রোড, সুনামগঞ্জ-৩০০০।

অফিস :

  • ই-মেইল : dailysunamkantha@gmail.com
  • ওয়েবসাইট : www.sunamkantha.com