জেলা বিএনপির সংবাদ সম্মেলন

সড়ক নির্মাণে দুর্নীতি আড়াল করতেই এমপি’র বিরুদ্ধে অপপ্রচার, লুটপাটকারীদের বিচারের দাবি

আপলোড সময় : ০৩-১১-২০২৬ ০১:৪৬:২০ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ০৩-১১-২০২৬ ০১:৪৭:৪৬ পূর্বাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার::
সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নূরুল ইসলাম নূরুলের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অভিযোগকে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে এর প্রতিবাদ জানিয়েছে জেলা বিএনপি। সুনামগঞ্জ-কাছিরগাতি-বিশ্বম্ভরপুর সড়ক নির্মাণকাজে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ধরার পরিপ্রেক্ষিতে এ অভিযোগ করা হয়েছে বলে দাবি দলটির। একই সঙ্গে সড়ক নির্মাণে অনিয়ম-দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা এবং এমপির বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগে শফিকুল ইসলামকে অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে জেলা বিএনপি। সোমবার জেলা বিএনপির আয়োজনে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সুনামগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নূরুল ইসলাম নূরুল, জেলা বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুল হক, সদস্য অ্যাডভোকেট মাসুক আলম, নাদির আহমদ, আকবর আলী, অ্যাডভোকেট শেরেনূর আলী, রেজাউল হক, আ ত ম মিসবাহসহ দলের নেতারা। লিখিত বক্তব্যে কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন বলেন, সড়কটির নির্মাণকাজের দায়িত্ব পায় ঢাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বদরুল ইকবাল লিমিটেড। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ঠিকাদার দেশ ছেড়ে চলে গেলে প্রথমে সাব-ঠিকাদার হিসেবে কাজ পান সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আজাদ হোসেন। পরে তাদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিলে দ্বিতীয় সাব-ঠিকাদার হিসেবে কাজ নেন শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, গত ২৭ অক্টোবর সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নূরুল ইসলাম নূরুল বিশ্বম্ভরপুরের রতারগাঁও হাইস্কুল থেকে একটি অনুষ্ঠান শেষে ফেরার পথে স্থানীয় লোকজন তাকে সড়কের নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগ জানান। পরে তিনি নিজেও সরেজমিনে গিয়ে সদ্য নির্মিত গার্ডওয়াল একদিকে হেলে পড়া, ব্লক নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার এবং মাটি যথাযথভাবে ক¤েপকশন না করে জিও টেক্সটাইলের ওপর ব্লক বসানোর বিষয়টি দেখতে পান। এ ছাড়া ভিট বালুর পরিবর্তে কৃষিজমির উপরিভাগের মাটি ব্যবহারের অভিযোগও করেন তিনি। লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, বিষয়টি জানার পর সংসদ সদস্য পরদিন ঠিকাদারকে উপস্থিত রেখে সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে নির্মাণকাজ পরিদর্শনের উদ্যোগ নেন। তবে এর আগেই সাব-ঠিকাদার শফিকুল ইসলাম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন। জেলা বিএনপির দাবি, নির্মাণকাজের অনিয়ম আড়াল করতেই সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ তোলা হয়েছে। এ ঘটনাকে সংঘবদ্ধ অপপ্রচার বলেও উল্লেখ করেন দলটির নেতারা। সংবাদ সম্মেলনে প্রকল্পের ব্যয় নিয়েও গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ তোলেন কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন। তিনি বলেন, ৪০ কোটি টাকার প্রকল্পে ৮৭ কোটি টাকা ব্যয় দেখানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল। প্রকল্পে সাত লাখ ঘনফুট মাটির প্রয়োজন দেখানোর কথা থাকলেও ৫৬ লাখ ঘনফুট মাটি ধরা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, ইতোমধ্যে প্রকল্পের বিপরীতে প্রায় ৩৮ কোটি টাকার বিল উত্তোলন করা হয়েছে। এছাড়া প্রকল্পের ব্যয়ের বিবরণসংবলিত কোনো সাইনবোর্ডও জনসম্মুখে প্রদর্শন করা হয়নি। সংবাদ সম্মেলনে প্রকল্পের অনিয়ম-দুর্নীতির তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণসহ পাঁচ দফা দাবি জানায় জেলা বিএনপি। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, প্রকল্পের শুরু থেকে দুর্নীতির পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা; প্রকল্পের প্রকৃত ব্যয় পুনর্মূল্যায়ন করে অতিরিক্ত দেখানো অর্থ ঠিকাদারের কাছ থেকে সরকারি কোষাগারে ফেরত আনা; নিম্নমানের নির্মাণকাজ বাতিল করে নকশা অনুযায়ী মানসম্পন্ন সামগ্রী দিয়ে পুনরায় কাজ করা; দায়িত্বে অবহেলাকারী সড়ক বিভাগের প্রকৌশলীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া এবং সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের চলমান অন্যান্য কাজের অনিয়ম-দুর্নীতিও তদন্ত করা।

সম্পাদকীয় :

  • সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : মো. জিয়াউল হক
  • সম্পাদক ও প্রকাশক : বিজন সেন রায়
  • বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : মোক্তারপাড়া রোড, সুনামগঞ্জ-৩০০০।

অফিস :

  • ই-মেইল : dailysunamkantha@gmail.com
  • ওয়েবসাইট : www.sunamkantha.com