স্টাফ রিপোর্টার ::
জামালগঞ্জে ‘ইয়াবা ট্যাবলেট দিয়ে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ফাঁসানো’র অভিযোগে মুনসুর আহমদ নামে এক অটোরিকশাচালকের মুক্তি ও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (৭ নভেম্বর) বিকেলে উপজেলার ভীমখালী ইউনিয়নের ছেলাইয়া গ্রামের বাসিন্দা বাবুল মিয়ার ছেলে মুনসুর আহমদের পক্ষে লালবাজারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। জামালগঞ্জ ইজিবাইক মালিক-চালক সমিতি ও সচেতন নাগরিকদের ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধনে স্থানীয় এলাকাবাসী, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও সচেতন নাগরিকরা অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, গত মঙ্গলবার জামালগঞ্জ থানা পুলিশ মুনসুর আহমদের অটোরিকশায় ইয়াবা ট্যাবলেট পাওয়ার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। তবে মুনসুরকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানো হয়েছে এবং তিনি নিরপরাধ এমন দাবি করে তার স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবিতে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।
মানববন্ধনে জামালগঞ্জ ইজিবাইক মালিক-চালক সমিতির সাধারণ স¤পাদক মো. নয়ন মিয়া বলেন, এর আগেও এই গ্রাম থেকে একাধিক নিরপরাধ মানুষকে মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে আটক করা হয়েছে। মানিগাঁও গ্রামের স্বপন নামে এক ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে মাদক বিক্রির সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে যারা কথা বলেছেন, তাদেরও কৌশলে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। ইতিপূর্বে ওই ব্যক্তি বিভিন্ন মামলায় কারাভোগ করেছেন বলেও উল্লেখ করেন নয়ন মিয়া।
তিনি আরও বলেন, মুনসুর আহমদ একজন দরিদ্র অটোরিকশাচালক। তিনি কখনো এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন না। কয়েক দিন আগে স্বপনের মাদক বিক্রির বিরুদ্ধে কথা বলায় তার অটোরিকশায় ইয়াবা ট্যাবলেট রেখে তাকে ফাঁসানো হয়েছে বলে আমরা মনে করি। আমরা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে তার সুবিচার চাই। কোনো নিরপরাধ মানুষ যেন ষড়যন্ত্রের শিকার না হন, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।
ছেলাইয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক আলী রেজা বলেন, মানিগাঁও গ্রামের স্বপন নামে ওই ব্যক্তি মাদকের সঙ্গে জড়িত বলে এলাকাবাসী জানেন। তিনি এলাকায় প্রকাশ্যে চলাফেরা করছেন, অথচ একজন অসহায় অটোরিকশাচালক গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত বিচার দাবি করছি।
গ্রেপ্তার মুনসুর আহমদের স্ত্রী মমতাজ বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার স্বামী একজন নিরপরাধ অটোরিকশাচালক। তিনি কখনো এ ধরনের কাজে জড়িত ছিলেন না। কিন্তু স্বপন আমার স্বামীকে এভাবে ফাঁসিয়েছে। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই। তিনি আরও বলেন, স্বামী কারাগারে থাকায় বর্তমানে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। তার অটোরিকশাটিও থানার হেফাজতে রয়েছে। গাড়িটি ফেরত পেলে অন্তত ভাড়া দিয়ে হলেও আপাতত সংসার চালাতে পারতাম।
এ সময় মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন জামালগঞ্জ ইজিবাইক মালিক-চালক সমিতির সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেন, বণিক সমিতির সদস্য দেলোয়ার হোসেন, অটোরিকশাচালক জিলাল হোসেনসহ বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষ।
মানববন্ধন থেকে মুনসুর আহমদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
অভিযোগের ব্যাপারে জানতে স্বপন মিয়ার মোবাইলফোনে একাধিকবার কল করলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।
এ ব্যাপারে জামালগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বন্দে আলী বলেন, কে বা কারা তার গাড়িতে ইয়াবা রেখেছে আমরা জানি না। আমরা যার গাড়িতে পেয়েছি তাকেই আটক করেছি। তবে বিষয়টি তদন্ত করে খতিয়ে দেখা হবে।