
সুনামকণ্ঠ ডেস্ক ::
মব ভায়োলেন্সের ধারাবাহিকতায় আশঙ্কা ও উষ্মা প্রকাশ করে গণফোরামের ইমিরেটাস সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, মব সংস্কৃতির এক নতুন প্রেক্ষাপট বিরাজ করছে। এই অশুভ শক্তিকে দমন করতে সরকার ব্যর্থ হলে দেশে ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হবে।
শুক্রবার (২৯ আগস্ট) বিকেলে গণফোরামের ৩২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তার লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক ডা. মিজানুর রহমান।
ড. কামাল হোসেন বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর থেকেই লক্ষ্য করা যাচ্ছে, একটি অশুভ শক্তি বিগত আমলের মতোই সর্বত্র চাঁদাবাজি, দখলবাজি, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সন্ত্রাস, সংঘর্ষ, খুনোখুনি ও মব সংস্কৃতির এক নতুন প্রেক্ষাপট তৈরি করছে। এই অশুভ শক্তিকে দমন করতে সরকার ব্যর্থ হলে দেশে ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হবে, যা কারো কাম্য নয়।
নির্বাচনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি বলেন, বিগত সরকার দলীয়করণের মাধ্যমে রাষ্ট্রের সব সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা সমূলে ধ্বংস করে রেখে গেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় সংস্কারসহ একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক উত্তরণ এখন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান দায়িত্ব।
ড. কামাল হোসেন বলেন, এখন সময়ের দাবি, প্রয়োজনীয় সংস্কার, অপরাধীদের বিচার ও সুষ্ঠু নির্বাচন। এতে মানুষের আকাক্সিক্ষত একটি বৈষম্যহীন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণের পথ সুগম হয়। ইতোমধ্যে অন্তর্বর্তী সরকার আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে জাতীয় নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছে। আশা করি, বর্তমান সরকার জনগণের প্রত্যাশা পূরণে আন্তরিকতার সঙ্গে তার অর্পিত দায়িত্ব পালন করবে।
দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর প্রেক্ষাপট নিয়ে কামাল হোসেন বলেন, গণফোরাম মনে করে, কেবল সরকার ও দল বদল নয়, জনগণের ভাগ্য বদলের জন্য সমাজ ও রাষ্ট্রের অর্থবহ পরিবর্তন আনতে হবে। গণফোরামের লক্ষ্য বৈষম্যমুক্ত গণতান্ত্রিক ও মানবিক কল্যাণকামী রাষ্ট্র বিনির্মাণ।