সুনামগঞ্জ তথা ভাটি অঞ্চলের সাংবাদিকতায় ‘দৈনিক সুনামকণ্ঠ’ ইতিমধ্যেই এক বিশেষ অবদান রাখতে সমর্থ হয়েছে। বিগত বছরগুলির অনেক চড়াই-উৎরাই পার হয়ে পত্রিকাটি আজ প্রকাশনার ১২তম বছরে পদার্পণ করতে সক্ষম হয়েছে। এটা কিন্তু খুব একটা সহজ বিষয় ছিল না। সুনামগঞ্জের মত পিছিয়ে পড়া অনগ্রসর এলাকা যেখানে যোগাযোগ ব্যবস্থা শিল্প-কারখানা, বাণিজ্য বলতে গেলে নেই; সেখানে পত্রিকা নিয়মিত প্রকাশ সত্যিই একটি ব্যতিক্রমী প্রয়াস। প্রতিদিন সকালে যখন এ পত্রিকাটি স্থানীয় ও জাতীয় সংবাদে ভরপুর হয়ে পাঠকের হাতে পৌঁছায় তখন পাঠকের মন আনন্দে ভরে যায়। যদিও এটি একটি জেলাভিত্তিক পত্রিকা তা স্বত্ত্বেও পত্রিকাটিতে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ অনেক খবরও পরিবেশিত হয়। আমি সুনামগঞ্জ ছাড়াও অন্যান্য জেলা শহর থেকে প্রকাশিত পত্রিকাগুলি দেখেছি। আমার ধারণা ‘দৈনিক সুনামকণ্ঠ’ অন্যান্য জেলার পত্রিকাগুলোর চেয়েও অনেকটা অগ্রসরমাণ। বিশেষ করে পত্রিকাটির গেটআপ, বিষয়বস্তু নির্বাচন, অলংকরণ ইত্যাদি বিষয়ে এই পত্রিকাটি আলাদা বৈশিষ্ট্য বজায় রাখতে সমর্থ হয়েছে।
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় পত্র-পত্রিকার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই দৈনিকটিতে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক বিষয়গুলো নিয়েও লেখা প্রকাশিত হয়ে থাকে। তবে এখন পর্যন্ত ‘হলুদ সাংবাদিকতা’ থেকে এই পত্রিকাটি দূরে রয়েছে বলে আমার কাছে প্রতীয়মান হয়েছে। পত্রিকাটির বস্তুনিষ্ঠতা এবং নিরপেক্ষতা নিয়েও কোন মহল থেকে কোন প্রশ্ন উত্থাপিত হয়নি বলে মনে করি।
সুনামগঞ্জ জেলার মানুষের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পত্রিকাটি অত্যন্ত সোচ্চার। এতে মানুষের হৃদয়ে এই দৈনিকটি একটি বিশেষ স্থান অধিকার করেছে। এটা স্বাভাবিক এলাকার মানুষে স্বার্থ, সুখ-দুঃখের কথা বললে পত্রিকাটির ভাবমূর্তি বাড়বে এবং পত্রিকাটির প্রতি মানুষের আকর্ষণ আরও বৃদ্ধি পাবে।
সুনামগঞ্জের মত প্রত্যন্ত একটি জেলা শহর থেকে নিয়মিত পত্রিকা প্রকাশ করা দুরূহ ব্যাপার। কারণ এখানে পত্রিকার প্রাণশক্তি বিজ্ঞাপনের অভাব। যা পত্রিকার আয়ের প্রধান উৎস। তবুও অনেক প্রতিকূলতার মধ্যেও পত্রিকাটি নিয়মিত প্রকাশিত হচ্ছে এবং মানুষের বিশ্বাস অর্জন করেছে। সেই সাথে দৈনিকটির প্রকাশক ও সম্পাদক জনাব বিজন সেন রায়কে অভিনন্দন জানাই। তিনি অত্যন্ত নিবেদিতপ্রাণ সংবাদকর্মী। দৈনিকটির জন্মলগ্ন থেকেই তিনি এর সাথে যুক্ত। তিনি এই প্রতিষ্ঠানটির প্রাণশক্তি। তাঁর একনিষ্ঠ পরিশ্রম, আন্তরিকতা, দক্ষতা ও সততার কারণেই দৈনিকটি তার স্বাভাবিক পথ পরিক্রমণ করছে।
পরিশেষে আমি দৈনিক সুনামকণ্ঠের সভাপতিমন্ডলীর সভাপতি জনাব মো. জিয়াউল হক এবং সংশ্লিষ্ট সকল সাংবাদিক, কর্মচারী ও শুভানুধ্যায়ীদের শুভকামনা করি। দৈনিক সুনামকণ্ঠ দীর্ঘজীবী হোক। পত্রিকাটির ভবিষ্যৎ আরো সমৃদ্ধ ও উজ্জ্বল হোক।