শান্তিগঞ্জ প্রতিনিধি ::
শান্তিগঞ্জ উপজেলার ঘোড়াডুম্বুর গ্রামে বোরো জমিতে পানি সেচ দিতে গেলে প্রতিপক্ষের হামলায় নারীসহ ছয়জন আহত হয়েছেন। ঘটনাটি ঘটে গত বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে। আহতদের মধ্যে রয়েছেন- আব্দুল গফুর, হারুন রশীদ, ফজুল মিয়া, আব্দুল মানিক, সিরিয়া বেগম, আসিকা বেগম ও মিনারা বেগম। আহতদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় ঘোড়াডুম্বুর গ্রামের মৃত উমর আলীর ছেলে আব্দুল গফুর বাদী হয়ে বৃহ¯পতিবার (১ জানুয়ারি) শান্তিগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গ্রাম্য আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব বিরোধকে কেন্দ্র করে ২০২৩ সালে ওই গ্রামে পক্ষে-বিপক্ষে একাধিক মামলা-মোকদ্দমা হয়। এ বিরোধের জেরে সাবেক ইউপি সদস্য আকিকুর রহমান আকিকের পক্ষের এক ব্যক্তি নিহত হন। ওই ঘটনায় অভিযোগকারী আব্দুল গফুর, হারুন রশীদসহ তাদের পক্ষের কয়েকজনকে হত্যা মামলায় আসামি করা হয়। পরবর্তীতে মামলা ও ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের হয়রানি, বসতবাড়িতে লুটপাট, মাছের হ্যাচারির মাছ লুট এবং জমি দখলের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে ঘোড়াডুম্বুর গ্রামের রজন আলীর ছেলে হারুন রশীদের প্রায় ২০ একর বোরো জমি গত তিন বছর ধরে অনাবাদি পড়ে ছিল। সম্প্রতি আদালত থেকে জামিনে এসে হারুন রশীদ ও তার লোকজন পুনরায় জমি চাষাবাদ ও মাছের হ্যাচারিতে মাছ চাষের প্রস্তুতি নিলে প্রতিপক্ষ বাধা দেয় বলে অভিযোগ।
অভিযোগে আরও বলা হয়, বুধবার সারাদিন পানি পা¤প বসিয়ে জমিতে পানি সেচের কাজ চলছিল। সন্ধ্যায় আকিকুর রহমান আকিক, আব্দুল খালিক, আলী, আতিকুর রহমান, আবুল বশর, শাওন ও রেজু মিয়াসহ এজাহারভুক্ত ২৫ জন এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১২ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এ সময় মারপিটে কয়েকজন আহত হন। পরে পানির পা¤প ও ঠেলাগাড়ি নিয়ে যেতে চাইলে বাধা দিলে নারী সদস্যদেরও মারধর করা হয়। একপর্যায়ে অভিযুক্তরা পানির পা¤প ও ঠেলাগাড়ি নিয়ে তাদের বসতবাড়িতে নিয়ে যায় বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
অভিযুক্ত আকিকুর রহমান আকিক অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, গ্রামবাসীর সঙ্গে কোনো মারপিট হয়নি, শুধু হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে।
অভিযোগ তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. সেলিম মিয়া বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মতামত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শান্তিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওলি উল্লাহ বলেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।