স্টাফ রিপোর্টার ::
সুনামগঞ্জের শহরের ওয়েজখালীতে অবস্থিত সাআইদৌলা (প্রাঃ) এন্টারপ্রাইজ লিমিটেডে সরকার ঘোষিত ন্যূনতম মজুরি ও শ্রম আইন বাস্তবায়নের দাবিতে বাড়ছে শ্রমিক অসন্তোষ ও কর্মবিরতিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বাড়ছেই। ন্যূনতম মজুরি ও শ্রম আইন বাস্তবায়নের দাবিতে কর্মবিরতিতে রয়েছেন শ্রমিকরা। এদিকে শ্রমিকদের দাবিকে উপেক্ষা করে কর্তৃপক্ষ সরকারকে বিভ্রান্ত করতে শ্রমিকদের কাজে যোগ দিতে নোটিশ দিলেও শনিবার (৩ জানুয়ারি) দুপুরে কাজে যোগ দিতে গিয়ে কারখানার মূল ফটকে বাধার মুখে পড়েন শ্রমিকরা। তাদেরকে কাজে যোগ দিকে দেয়নি কর্তৃপক্ষ।
কারখানা কর্তৃপক্ষ জানায়, গত ৯ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে একাধিক শ্রমিক বিনা অনুমতিতে কাজে অনুপস্থিত রয়েছেন। এ প্রেক্ষিতে গত ১ জানুয়ারি মানবস¤পদ বিভাগের কর্মকর্তা নার্গিস সুলতানা ঝিনুকের স্বাক্ষরে একটি চূড়ান্ত নোটিশ জারি করা হয়। নোটিশে উল্লেখ করা হয়, আগামী ৪ জানুয়ারি সকাল ৯টার মধ্যে কাজে যোগ না দিলে অনুপস্থিত শ্রমিকদের চাকরি পরিত্যাগ হিসেবে গণ্য করে বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নোটিশের সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই শনিবার দুপুরে বিপুলসংখ্যক শ্রমিক কাজে যোগ দিতে কারখানার গেটে উপস্থিত হন। তবে শ্রমিকদের অভিযোগ, গেটে দায়িত্বরত নিরাপত্তা প্রহরীরা কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তাদের কারখানার ভেতরে প্রবেশ করতে দেননি। শ্রমিকদের কাজে যোগদানের সময় ওয়েজখালি এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিগণ উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু শ্রমিকদের কাজে যোগদানে কর্তৃপক্ষের অসহযোগিতায় এলাকায় চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নোটিশ পেয়ে কাজে যোগ দিতে এসে যোগদানে বাধা দেওয়ায় বিক্ষোভ করেন শ্রমিকরা।
আন্দোলনরত নারী শ্রমিকরা জানান, নোটিশ অনুযায়ী তারা কাজে যোগ দিতে এসেছেন, কিন্তু গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এতে তারা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। তাদের দাবি, পরিবার-পরিজন নিয়ে বেঁচে থাকার জন্য তারা কাজ করতে চান এবং শ্রম আইন অনুযায়ী নিন্মতম মজুরি ও শ্রম আইন বাস্তবায়ন চান
শ্রমিকরা আরো অভিযোগ করেন, কারখানাটিতে শ্রম আইন যথাযথভাবে মানা হয় না। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে- সরকার ঘোষিত নূন্যতম মজুরি প্রদান, সাপ্তাহিক ও সরকারি ছুটির নিশ্চয়তা, পাঁচ মিনিট দেরির জন্য বেতন কর্তনের নিয়ম বাতিল, অসুস্থতা ও নারীদের শারীরিক সমস্যাজনিত ছুটির অধিকার এবং শ্রমিকদের সঙ্গে কর্তৃপক্ষের অশোভন আচরণ বন্ধ করা।
শ্রমিকদের কাজে যোগদানে বাধা প্রদান করায় শ্রমিকরা কারখানা এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করে কর্তৃপক্ষের এহেন আচরণের নিন্দা জানান সাথে সাথে শ্রমিকদের পাঁচ দফা দাবি অবিলম্বে বাস্তবায়নের দাবি জানান।
এ বিষয়ে ম্যানেজার শফিকুর রহমান বলেন, দুইজন চাকরিচ্যুতদের পুনর্বহাল না করলে শ্রমিকরা কাজে যোগ দিতে চাননি। কিন্তু দুজনকে ইতোমধ্যে চাকুরিচ্যুত করা হয়েছে শ্রম আইন মেনে। এখন ওই দুইজনের জন্য তারা কাজে যোগ দেননি।