সেচের অভাবে চাষাবাদ করতে পারছেন না কৃষকরা

সংযোগ নিয়ে পল্লীবিদ্যুতের টালবাহানা

আপলোড সময় : ২১-০১-২০২৬ ১০:৪১:১১ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ২১-০১-২০২৬ ১০:৪১:১১ পূর্বাহ্ন
মুহাম্মদ হাবীবুল্লাহ হেলালী :: পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের দীর্ঘসূত্রতা ও একের পর এক শর্তের বেড়াজালে সেচ সংযোগ না পাওয়ায় দোয়ারাবাজার উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়নের উত্তর বাঘমারা গ্রামে চাষাবাদ চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। দুই বছর ধরে বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য আবেদন করেও সংযোগ না পাওয়ায় চলতি বোরো মৌসুমে শত শত কৃষক সেচের অভাবে ফসল আবাদ করতে পারছেন না। সরেজমিনে গিয়ে জানাযায়, উত্তর বাঘমারা গ্রামের কৃষক এশাদ মিয়া দুই বছর আগে কৃষি জমিতে সেচ সুবিধা নিশ্চিত করতে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন করেন। সেচ সংযোগের জন্য ১০ অশ্বশক্তি লোডে বিদ্যুৎ সংযোগ চেয়ে করা ওই আবেদনের প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তর কর্তৃক কারিগরি সমীক্ষা স¤পন্ন হয় এবং প্রশাসনিক অনুমোদনও দেওয়া হয়। কিন্তু এরপরও নানা অজুহাত ও টালবাহানার কারণে আজ পর্যন্ত বিদ্যুৎ সংযোগ স্থাপন করা হয়নি। কৃষকরা জানান, উত্তর বাঘমারা গ্রামে সেচ সংযোগ চালু হলে প্রতিবছর বিস্তীর্ণ এলাকায় বোরো, আমন ধান ও শীতকালীন সবজি চাষ সম্ভব হতো। গেল বছর পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের শর্ত অনুযায়ী খুঁটি স্থাপনের জন্য প্রায় ৪০ হাজার টাকা জমা দেওয়া হয়। তবে এরপর নতুন করে ট্রান্সফরমার স্থাপনের অজুহাতে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়। এসব জটিলতার কারণে এখনও বিদ্যুৎ সংযোগ না হওয়ায় কয়েকটি গ্রামের শত শত কৃষক চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন। এদিকে সেচের পানির অভাবে চলতি মৌসুমে প্রায় তিন শতাধিক কেদার জমিতে বোরো আবাদ করা যায়নি। পাশাপাশি কয়েক হেক্টর শীতকালীন সবজি খেত পানিশূন্যতায় কাঠফাটা শুকিয়ে গেছে। ফলন্ত সবজি গাছ মরে যাওয়ায় কৃষকরা নিঃস্ব হওয়ার উপক্রম হয়েছেন। কৃষক আব্দুল অহিদ বলেন, যেখানে ডিপ মেশিন বসানো হয়েছে, তার পাশেই পল্লী বিদ্যুতের খুঁটি রয়েছে। তারপরও আলাদা খুঁটির কথা বলে আমাদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে। এখন আবার ট্রান্সফরমারের জন্য মোটা অঙ্কের টাকা না দিলে সংযোগ দেওয়া হবে না। কৃষক ফরিদ উদ্দিন বলেন, পানির অভাবে বোরো আবাদ করা যাচ্ছে না। শীতকালীন সবজি খেত শুকিয়ে গাছগুলো মরে যাচ্ছে। আমাদের সংসার চালানোর আর কোনো উপায় নেই। আবেদনকারী কৃষক এশাদ মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দুই বছর ধরে অফিসে ঘুরে কোনো প্রতিকার পাচ্ছি না। অনুমোদন থাকার পরও উপজেলা পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের টালবাহানায় চলতি বোরো মৌসুমেও আমরা আবাদ করতে পারছি না। ট্রান্সফরমারের জন্য মোটা অঙ্কের টাকা দিয়েই নাকি সংযোগ নিতে হবে। আমরা এখন যাবো কোথায়? এ বিষয়ে উপজেলা পল্লী বিদ্যুৎ সাব-জোনাল অফিস, দোয়ারাবাজারের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (ওএন্ডএম) মো. আব্দুর রাশিদ বলেন, কৃষকদের সুবিধার্থে ট্রান্সফরমারের জন্য নির্ধারিত কোনো স্থায়ী টাকা নেই। তবে বর্তমানে ট্রান্সফরমারের সংকট থাকায় কৃষকদের নিজ উদ্যোগে ট্রান্সফরমার কেনার কথা বলা হতে পারে। পরে ওই টাকা বিদ্যুৎ বিলের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে, তখন আর আলাদা করে বিল দিতে হবে না। এদিকে দ্রুত সেচ সংযোগ চালুর দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা। অন্যথায় চলতি মৌসুমে ব্যাপক কৃষি ক্ষতির পাশাপাশি কৃষকদের জীবন-জীবিকা চরম ঝুঁকির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

সম্পাদকীয় :

  • সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : মো. জিয়াউল হক
  • সম্পাদক ও প্রকাশক : বিজন সেন রায়
  • বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : মোক্তারপাড়া রোড, সুনামগঞ্জ-৩০০০।

অফিস :

  • ই-মেইল : dailysunamkantha@gmail.com
  • ওয়েবসাইট : www.sunamkantha.com