সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চল কৃষিনির্ভর অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিশেষ করে বোরো মৌসুমকে কেন্দ্র করেই হাজারো কৃষকের জীবিকা, খাদ্য নিরাপত্তা ও স্থানীয় অর্থনীতি আবর্তিত হয়। সেই বাস্তবতায় ধলাই নদীর রাবারড্যামে ছিদ্র এবং সংশ্লিষ্ট পাইপ ও বালভ নষ্ট হয়ে যাওয়ার ঘটনা শুধু একটি যান্ত্রিক ত্রুটি নয়, এটি সরাসরি কৃষকের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
২০০৮ সালে প্রায় তিন কোটি টাকা ব্যয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে নির্মিত ধলাই নদীর রাবারড্যামটি দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকার কৃষকদের জন্য পানির নিশ্চয়তা দিয়ে এসেছে। কিন্তু দীর্ঘ ১৭-১৮ বছর ধরে যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও সময়োপযোগী সংস্কারের অভাবে আজ সেই ড্যাম কার্যকারিতা হারাতে বসেছে। রাবারে ছিদ্র, সংযোগ পাইপে জং এবং বালভ নষ্ট হয়ে যাওয়ার ফলে ড্যামটি সঠিকভাবে ফুলছে না, ফলে হাজারো একর জমিতে সেচ সংকট দেখা দিয়েছে।
উদ্বেগজনক বিষয় হলো, সমস্যাটি নতুন নয়; বরং এটি দীর্ঘদিনের অবহেলার ফল। সময়মতো তদারকি, কারিগরি পরিদর্শন ও রক্ষণাবেক্ষণ করা হলে হয়তো আজ কৃষকদের এমন চরম হতাশার মুখে পড়তে হতো না। স্থানীয় কৃষক ও পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির সদস্যরা নিজেদের উদ্যোগে ড্যাম ফুলানোর চেষ্টা করলেও তা যে সাময়িক ও অপর্যাপ্ত - এ কথা বলাই বাহুল্য।
বোরো মৌসুম সামনে রেখে পানি সংকট মানেই চাষাবাদ অনিশ্চিত হয়ে পড়া। এতে শুধু কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না, এর প্রভাব পড়বে খাদ্য উৎপাদন, বাজার ও সামগ্রিক অর্থনীতিতেও। তাই বিষয়টিকে হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই।
এলজিইডি কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন - এটি আশার কথা। তবে আশ্বাসের পাশাপাশি প্রয়োজন কার্যকর পদক্ষেপ। জরুরি ভিত্তিতে কারিগরি পরীক্ষা, রাবার পরিবর্তন বা মেরামত, পাইপ ও বালভ প্রতিস্থাপন এবং ভবিষ্যতের জন্য একটি নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ পরিকল্পনা গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।
আমরা মনে করি, ধলাই নদীর রাবারড্যাম শুধু একটি অবকাঠামো নয়; এটি হাজারো কৃষকের স্বপ্ন, শ্রম ও জীবিকার সঙ্গে জড়িত। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীল ও দ্রুত হস্তক্ষেপই পারে কৃষকদের সেই স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে। অবহেলা নয়, এখন প্রয়োজন কার্যকর উদ্যোগ ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থাপনা।