শান্তি ও শৃঙ্খলা রক্ষার আহ্বান : বিজয়ের পর দায়িত্ব আরও বড়

আপলোড সময় : ১৬-০২-২০২৬ ০৯:২৩:৩৪ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ১৬-০২-২০২৬ ০৯:২৩:৩৪ পূর্বাহ্ন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনোত্তর সময়ে তারেক রহমান যে বার্তা দিয়েছেন- “যেকোনো মূল্যে শান্তি-আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে” - তা শুধু তার দলের নেতাকর্মীদের জন্য নয়, সমগ্র জাতির জন্যই একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা। নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের যে রায় প্রতিফলিত হয়েছে, তা গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পাশাপাশি রাজনৈতিক শক্তিগুলোর জন্য নতুন দায়িত্বও সৃষ্টি করেছে। নির্বাচনে বিজয় অর্জন একটি রাজনৈতিক দলের জন্য নিঃসন্দেহে গৌরবের বিষয়। কিন্তু সেই বিজয়কে অর্থবহ করতে হলে সবচেয়ে আগে প্রয়োজন রাজনৈতিক সংযম, দায়িত্বশীল আচরণ এবং আইনের প্রতি শ্রদ্ধা। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) চেয়ারম্যান তার বক্তব্যে যে দায়িত্ববোধের কথা উল্লেখ করেছেন, তা গণতান্ত্রিক চর্চার মৌলিক শর্তের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। বিজয়ের উচ্ছ্বাস যেন কোনোভাবেই বিশৃঙ্খলা, প্রতিহিংসা বা অস্থিতিশীলতার কারণ না হয় -এটি নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। গণতন্ত্র কেবল ভোটের মাধ্যমে সরকার গঠনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এর প্রকৃত শক্তি নিহিত রয়েছে আইনের শাসন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং সামাজিক স্থিতিশীলতার মধ্যে। তাই নির্বাচনের পর রাজনৈতিক দলগুলোর প্রধান দায়িত্ব হলো জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং একটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা। রাজনৈতিক কর্মীদের উচিত হবে জনগণের আস্থা রক্ষায় সংযত আচরণ করা এবং এমন কোনো কর্মকা-ে জড়িত না হওয়া, যা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে বিঘিœত করতে পারে। হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকা-এ অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তারেক রহমান জাতীয় ঐক্যের যে আহ্বান জানিয়েছেন, তা বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে মত ও পথের ভিন্নতা থাকতেই পারে, কিন্তু জাতীয় স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ থাকা অপরিহার্য। বিভাজন নয়, বরং পার¯পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতার মাধ্যমেই দেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব। একই সঙ্গে, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন, তাদের প্রতিও সম্মান প্রদর্শন করা গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির অংশ। বিরোধী মতের প্রতি সহনশীলতা ও আইনের প্রতি আনুগত্য একটি সভ্য রাজনৈতিক সমাজের পরিচায়ক। জনগণের প্রত্যাশা এখন একটাই- নির্বাচনের মাধ্যমে যে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা সৃষ্টি হয়েছে, তা যেন দেশের উন্নয়ন, স্থিতিশীলতা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী করে। পরিশেষে বলা যায়, নির্বাচনী বিজয় যেমন একটি অর্জন, তেমনি এটি একটি বড় দায়িত্বের সূচনা। শান্তি, শৃঙ্খলা ও আইনের শাসন বজায় রেখে জনগণের আস্থা অটুট রাখা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ। রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল ভূমিকা, সংযম ও দূরদর্শিতার মাধ্যমেই বাংলাদেশ একটি স্থিতিশীল, শক্তিশালী এবং সত্যিকারের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে এগিয়ে যেতে পারবে।

সম্পাদকীয় :

  • সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : মো. জিয়াউল হক
  • সম্পাদক ও প্রকাশক : বিজন সেন রায়
  • বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : মোক্তারপাড়া রোড, সুনামগঞ্জ-৩০০০।

অফিস :

  • ই-মেইল : [email protected]
  • ওয়েবসাইট : www.sunamkantha.com