স্টাফ রিপোর্টার ::
প্রভাবশালীদের রোষানলে ভিটেছাড়া করার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে দিনমজুর পরিবারের ঘর পুড়িয়ে দেওয়া, বেধড়ক মারপিট ও প্রাণনাশের হুমকির প্রতিবাদে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার বেলা ১১টায় শহরের ট্রাফিক পয়েন্ট এলাকায় এই কর্মসূচি পালন করা হয়। মানববন্ধনের আয়োজন করে পৌর শহরের হাসননগর এলাকার কেজাউড়া গ্রামের ভুক্তভোগী পরিবার।
মানববন্ধন চলাকালে তারা জানান, সুনামগঞ্জ পৌর শহরের নতুন হাছননগরের ৩নং ওয়ার্ডের অন্তর্ভুক্ত কেজাউড়া আবাসিক এলাকায় গত ২৯ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার) বেলা প্রায় ১১টার দিকে অগ্নিকান্ডপর ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ১০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তারা।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য অজিত বিশ্বাস বলেন, সব পুড়ে শেষ হয়ে গেছে। সবচেয়ে কষ্টের বিষয়, তিন পরিবারের সাতজন শিশুর বই-খাতা ও স্কুল ড্রেস পুড়ে যাওয়ায় তাদের পড়াশোনা নিয়ে আমরা চরম দুশ্চিন্তায় আছি। তিনি বলেন, প্রায় ২০ বছর আগে যৌথভাবে ৬০ হাত দৈর্ঘ্যের একটি ঘর নির্মাণ করা হয়। প্রতিটি ঘরে তিনটি করে কাঠের চুলা থাকলেও ঘটনার দিন সকাল থেকে কোনো রান্নাবান্না হয়নি, কারণ ওই দিন হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের একাদশী তিথি ছিল। কয়েকদিন আগে বিদ্যুৎ লাইনের চেকআপ ও নতুন ওয়্যারিং করানো হয়েছিল বলে শর্ট সার্কিটের সম্ভাবনা নেই। ঘটনার সময় পরিবারের সদস্যরা কর্মস্থল, স্কুল ও মাঠে থাকায় ঘর ফাঁকা ছিল।
অজিত বিশ্বাস আরও বলেন, প্রতিবেশীর সঙ্গে জমির সীমানা নিয়ে বিরোধ চলছিল। তাদের মোট রেকর্ডিয় জমি ছিল ২৩ শতাংশ। এর মধ্যে ৫ শতাংশ বিক্রি করার পর অবশিষ্ট ১৮ শতাংশ জমির সীমানা নির্ধারণ নিয়ে মনোমালিন্যের সৃষ্টি হয়। ঘটনার কয়েকদিন আগে এ নিয়ে প্রতিবেশী নুর মিয়া, ছোটন মিয়াগংদের সাথে কথা কাটাকাটিও হয়।
ওইদিন অগ্নিকান্ডের ঘটনায় তিনটি টিভি, তিনটি শোকেস, তিনটি আলমারি, মিক্সার, সিলিং ফ্যান, পালং, আলনা, লেপ-তোষক, কাপড়-চোপড়, হাঁড়ি-পাতিল, খাঁচায় থাকা হাঁস-মুরগি, প্রায় এক ভরি স্বর্ণালঙ্কার, নগদ এক লাখ টাকা, ঘরের বেড়া ও চালের টিন-কাঠ, সাতজন প্রাথমিক শিক্ষার্থীর বইপত্র ও স্কুল ড্রেস, ভোটার আইডি কার্ডসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র পুড়ে যায়। এই অগ্নিকান্ডের ঘটনার জের ধরে মারামারির ঘটনাও ঘটেছে।
অজিত বিশ্বাস বলেন, আমার স্ত্রী রোপন রাণী মালাকার ১৮ ফেব্রুয়ারি বুধবার সকালে দেখতে পান, তার ঘরে রাখা পুরোনো মালামাল সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে হৈচৈ করলে প্রতিবেশী প্রবাসী নুর মিয়ার ছেলে রিদুয়ান মিয়া (২৫) সেখানে এসে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে হামলা করে তারা। এ সময় স্কুল শিক্ষার্থী উত্তম বিশ্বাস (১৩) বাধা দিতে গেলে তাকেও মারধর করা হয়। ঘটনায় উত্তম বিশ্বাস, রোপন রাণী মালাকার (৩০) ও অজিত বিশ্বাস (৪০) আহত হন। উত্তম বিশ্বাস স্থানীয় এইচএমপি উচ্চবিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণির ছাত্র বলে জানা গেছে। আহতরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
ঘটনার পর রোপন রাণী মালাকার পরিবারের জানমালের নিরাপত্তা চেয়ে সদর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-৮৯৭; তাং-১৮-০২-২০২৬) দায়ের করেছেন।
মানববন্ধনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ঘটনার দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের গ্রেফতারসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
মানববন্ধনে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য লক্ষ্মী কান্ত বিশ্বাস, অনিল বিশ্বাস, অজিত বিশ্বাস, রোপন রাণী মালাকার, সুবর্ণা মালাকার, মিলি মালাকার, শিক্ষার্থী উত্তম বিশ্বাস, আপন বিশ্বাস, শ্রাবণী বিশ্বাস, বর্ষা বিশ্বাস, পূর্ণিমা মালাকার, দিগন্ত মালাকার, স্থানীয়দের মধ্যে এরশাদ মিয়া, ইসমাইল হোসেন, শওকত আলী, ওয়াহেদুল্লাহ, অজুদ মিয়া, আলী মিয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।