নদী রক্ষায় কঠোর ব্যবস্থা জরুরি

আপলোড সময় : ০৬-০৩-২০২৬ ০৯:১৭:৩৬ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ০৬-০৩-২০২৬ ০৯:১৭:৩৬ পূর্বাহ্ন
দোয়ারাবাজার উপজেলার নরসিংপুর ইউনিয়নের সোনালীচেলা নদীকে ঘিরে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা শুধু একটি এলাকার সংকট নয়; এটি আমাদের নদী ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনার গভীর ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি। টাকার লোভে নদীর পাড় বিক্রি, প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের বালু লুট এবং প্রশাসনিক দুর্বলতার ফলে একের পর এক গ্রাম নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আমরা মনে করি, নদী কেবল একটি জলধারা নয়, এটি একটি অঞ্চলের পরিবেশ, অর্থনীতি ও মানুষের জীবনযাত্রার অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু সোনালীচেলা নদীর ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, অপরিকল্পিত বালু উত্তোলন এবং নদীর পাড় কেটে নেওয়ার ফলে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ বদলে যাচ্ছে। এর ফলে নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করছে এবং শত শত একর ফসলি জমি ও বসতভিটা বিলীন হয়ে যাচ্ছে। কয়েকটি গ্রাম ইতোমধ্যে মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে, যা ভবিষ্যতে আরও বড় মানবিক বিপর্যয়ে রূপ নিতে পারে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, অভিযোগ রয়েছে- পরিবেশগত সমীক্ষা ছাড়াই নদীকে বালুমহাল হিসেবে ইজারা দেওয়া হচ্ছে। অথচ নদীতে পর্যাপ্ত বালু না থাকলে সেখানে বাণিজ্যিক উত্তোলন অনুমোদন দেওয়া পরিবেশের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এই সুযোগে স্থানীয় প্রভাবশালী সিন্ডিকেট নদীর পাড় কেটে গভীর থেকে বালু তুলছে, যা নদীভাঙনের অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখানে আরেকটি সামাজিক সমস্যাও সামনে এসেছে- কিছু জমির মালিক নগদ অর্থের প্রলোভনে নদীর পাড় বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। যদিও ব্যক্তিগত জমি তাদের মালিকানায়, কিন্তু নদীর পাড় কাটা শুধু ব্যক্তিগত ক্ষতির বিষয় নয়; এটি পুরো এলাকার পরিবেশ ও জনজীবনের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে। তাই আইন অনুযায়ী নদীর পাড় কাটাকে দ-নীয় অপরাধ হিসেবে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের ও তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া ইতিবাচক হলেও বাস্তবে যদি অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ না হয়, তবে এসব উদ্যোগ কার্যকর হবে না। প্রয়োজন নিয়মিত মনিটরিং, অবৈধ ড্রেজার ও বালু উত্তোলন যন্ত্র জব্দ, এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা। পাশাপাশি নদী রক্ষায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন এবং সচেতন নাগরিকদের সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো- নদীকে কেবল রাজস্ব আয়ের উৎস হিসেবে না দেখে একটি প্রাকৃতিক স¤পদ হিসেবে সংরক্ষণ করা। নদী রক্ষা মানেই পরিবেশ রক্ষা, কৃষি রক্ষা এবং মানুষের বসতভিটা রক্ষা। সোনালীচেলা নদীর বর্তমান পরিস্থিতি আমাদের জন্য একটি সতর্কবার্তা। এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে আগামী দিনে আরও অনেক গ্রাম মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে পারে।

সম্পাদকীয় :

  • সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : মো. জিয়াউল হক
  • সম্পাদক ও প্রকাশক : বিজন সেন রায়
  • বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : মোক্তারপাড়া রোড, সুনামগঞ্জ-৩০০০।

অফিস :

  • ই-মেইল : [email protected]
  • ওয়েবসাইট : www.sunamkantha.com