দোয়ারাবাজার প্রতিনিধি ::
সচ্ছল পরিবারেই বেড়ে উঠা। কোনো কিছুরই কমতি ছিলো না। পরিবারের একমাত্র সন্তান হওয়ায় সবাই তাকে ভীষণ ভালোবাসতো। তবুও বিদেশের মোহ তার পিছু ছাড়েনি। উন্নত জীবনের আশায় অবৈধ পথে ইউরোপ পাড়ি দিতে গিয়ে ভূমধ্যসাগরে প্রাণ হারিয়েছেন দোয়ারাবাজার উপজেলার বোগলাবাজার ইউনিয়নের কবিরনগর গ্রামের তরুণ ফাহিম আহমেদ মুন্না (২০)। সৌদি আরব প্রবাসী ফয়েজ উদ্দিনের একমাত্র ছেলে মুন্নার এই মর্মান্তিক মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছে পুরো পরিবার। পুত্রের শোকে অসুস্থ হয়ে এখন সৌদি আরবে আইসিইউতে ভর্তি রয়েছেন ফয়েজ উদ্দিন।
এদিকে একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে মা হেলেনা বেগমের আহাজারিতে কবিরনগর গ্রামের আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। পুরো এলাকা জুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। ছেলের মরদেহ শেষবারের মতো দেখার জন্য সরকারের কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছেন শোকাতুর মা হেলেনা বেগম। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, আমার ছেলের লাশটা যেন দেশে এনে দাফন করতে পারি, এইটাই এখন আমার শেষ চাওয়া।
স্বজনরা জানান, ইউরোপে যাওয়ার উদ্দেশ্যে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি বাড়ি থেকে দালালের মাধ্যমে সৌদি আরবে যান ফাহিম আহমেদ মুন্না। পরে সৌদি আরব থেকে লিবিয়ায় যান। এরপর লিবিয়া থেকে নৌকায় করে গ্রিসে যাওয়ার পথে মুন্নাসহ ২৬ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীর দলটি সাগরে পথ হারিয়ে ফেলে। দীর্ঘ সময় সাগরে ভাসতে থাকায় তীব্র খাদ্য ও পানীয় জলের সংকটে অন্তত ২১ জনের মৃত্যু হয়, যাদের মধ্যে মুন্নাও ছিলেন।
নিহতের চাচা বীর মুক্তিযোদ্ধা মোছলেহ উদ্দিনও মুন্নার মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অরূপ রতন সিংহ নিহতের বাড়িতে গিয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। তিনি জানান, নিহতের লাশ সরকারি প্রক্রিয়ায় দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।