ভূমধ্যসাগরে নিহত ১২ যুবকের পরিবারে কান্না থামছেনা, ৯ দালালের বিরুদ্ধে মামলা

আপলোড সময় : ৩১-০৩-২০২৬ ১০:২৬:২৪ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ৩১-০৩-২০২৬ ১০:২৭:৪৫ অপরাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার::
লিবিয়া থেকে অবৈধভাবে সাগরপথে হাওয়াই বোটে গ্রিস যাওয়ার সময় ভূমধ্যসাগরে নিহত সুনামগঞ্জের ১২ যুবকের পরিবারে কান্না থামছেনা। স্বজনরা দালালের বিচারের দাবিতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেছেন। এর মধ্যে জগন্নাথপুর ও দিরাইয়ে সন্তানহারা দুই পিতা ৯ দালালের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। সোমবার রাতে দিরাই ও জগন্নাথপুরে আলাদা দুটি মামলা দায়ের করা হয়। এদিকে দালালদের প্ররোচনায় অবৈধভাবে যুবকদের ইউরোপমুখি প্রবণতা রোধ এবং দালাল চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দাবি জানিয়েছেন সুধীজন। উল্লেখ্য, গত শনিবার দিরাই, জগন্নাথপুর ও দোয়ারাবাজার উপজেলার ১২ জন যুবক লিবিয়া থেকে গ্রিস যাওয়ার পথে সাগরে বিশুদ্ধ পানি ও খাবারের সংকটে মারা যান। পুলিশ জানায়, জগন্নাথপুর উপজেলায় মামলাটি দায়ের করেছেন পাইলগাঁও ইউনিয়নের দক্ষিণ পাইলগাঁও গ্রামের মো. হাবিবুর রহমান। তিনি নিহত যুবক আমিনুর রহমানের পিতা।
সোমবার রাতে দিরাইয়ে মামলাটি করেছেন দিরাই উপজেলার জগদল ইউনিয়নের বাসুরী গ্রামের নিহত সোহানুর রহমান এহিয়ার পিতা সালিকুর রহমান। হাবিবুর রহমানের মামলায় আসামিরা হলেন, ছাতকের গয়াসপুর গ্রামের মদরিছ মিয়ার ছেলে বিলাল মিয়া ও তার ভাই দুলাল মিয়া, জগন্নাথপুর উপজেলার ইছগাঁও গ্রামের ইন্তাজ আলীর ছেলে আজিজুল ইসলাম। মামলায় জসিম ও এনাম নামের আরো দুইজনকে আসামি করা হয়েছে। তবে তাদের নাম ঠিকানা অজ্ঞাত রয়েছে। দিরাই থানায় উপজেলার জগদল ইউনিয়নের বাসুরী গ্রামের নিহত সুহানুর রহমান এহিয়ার পিতা সালিকুর রহমান মামলায় আসামি করেছেন চারজনকে। আসামিরা হলেন একই উপজেলার তারাপাশা গ্রামের মৃত আকিব উল্লাহর ছেলে অভিযুক্ত (দালাল) মুজিবুর মিয়া, জগদল গ্রামের মাওলানা ওয়াহিদ মিয়ার ছেলে ইতালি প্রবাসী সালেহ আহমেদ, জগন্নাথপুর উপজেলার টিয়ারগাঁও গ্রামের ছায়েক আহমেদ ও ছাতক উপজেলার জসিম মিয়া। মামলার বিবরণে আমিনুর রহমানের বাবা উল্লেখ করেন, তিনি ৫ কিস্তিতে দালালকে নগদে ও ইসলামি ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা দিয়েছেন। সর্বশেষ গত ৪ জানুয়ারি ঢাকার ফকিরাপুলস্থ স্বাধীন ট্রাভেলসের ইসলামি ব্যাংকের একাউন্টে টাকা পাঠান। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন একটি বহুজাতিক কোম্পানিতে তার ছেলে চাকুরি করতো। তাকে লোভ দেখিয়ে ওই দালালচক্র ১১ লক্ষ টাকার চুক্তিতে গত ১৫ জানুয়ারি লিবিয়া নিয়ে যায়। লিবিয়া থেকে গত ২২ মার্চ গেইমে তুলে তাকে গ্রিসে নেওয়ার পথে অন্যান্য যুবকের সঙ্গে খাবার পানি ও খাবারের কারণে সাগরেই মারা যায়। পরে তার লাশ সাগরে ফেলে দেয় দালালরা। গত শনিবার তিনি খবর পেয়েছেন ছেলে মারা যাবার। দালালের প্ররোচনায় তার ছেলেসহ অন্য যুবকরাও একইভাবে প্রতারিত ও প্ররোচিত হয়ে বোটে গ্রিস যাওয়ার পথে মারা সাগরে মারা যায় বলে তিনি অভিযোগ করেন। একই অভিযোগে মামলা করেন দিরাই উপজেলার জগদল ইউনিয়নের বাসুরী গ্রামের নিহত সোহানুর রহমান এহিয়ার পিতা সালিকুর রহমান। তিনিও দিরাই উপজেলার দালাল মুজিবুর মিয়া, সালেহ আহমেদ, জগন্নাথপুর উপজেলার টিয়ারগাঁও গ্রামের ছায়েক আহমেদ ও ছাতক উপজেলার জসিম মিয়াকে আসামি করেছেন। মামলার বিষয়ে সালিকুর রহমান বলেন, প্ররোচনা ও প্রতারণার ফাঁদ পেতে যুবকদের ইউরোপমুখি স্বপ্নের দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে দালালরা মানুষকে নিঃস্ব করছে। আমিও ১৩ লক্ষ টাকা দিয়েছি সম্পদ বিক্রি করে। এখন আমার টাকাও গেছে ছেলেও চিরদিনের জন্য সাগরে হারিয়ে গেছে। আমি দালাল চক্রের বিচার চাই। দিরাই থানার ওসি এনামুল হক চৌধুরী বলেন, সোমবার রাতে নিহতের পিতা ও প্রতারণা ও প্ররোচনাসহ নানা অভিযোগে ৫জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। এর মধ্যে কেউ দেশে থাকে, কেউ দেশের বাইরে অবস্থান করে। আমরা তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেব। সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) সুজন সরকার বলেন, এই ঘটনার সাথে যারাই জড়িত থাকুক না কেন, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। তদন্ত সাপেক্ষে আরও নাম বেরিয়ে আসলে তাদেরও গ্রেফতার করা হবে। উল্লেখ্য, গত শনিবার নিহতদের পরিবার ভূমধ্যসাগরে তাদের সন্তানরা মারা যাওয়ার খবর পান।
নিহতরা হলেন- জগন্নাথপুর উপজেলার শামছুল হকের ছেলে ইজাজুল হক রেজা (২৩), একই গ্রামের দুলন মিয়ার ছেলে নাইম মিয়া (২৪), রানীগঞ্জ ইউনিয়নের টিয়ারগাঁও গ্রামের আখলুছ মিয়ার ছেলে শায়েক আহমদ জনি (২৫), পাইলগাঁও (হাড়গ্রাম) গ্রামের প্রাক্তন শিক্ষক হাবিবুর রহমানের ছেলে আমিনুর রহমান (২৬) ও ইছগাঁও গ্রামের বশির মিয়ার ছেলে আলী আহমদ (২২)। জগন্নাথপুরের পাশাপাশি দিরাই উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নের তারাপাশা গ্রামের তিন জন মারা যান। তারা হলেন গ্রামের সাইদ সরদারের ছেলে নূরুজ্জামান ময়না (৩০), ইসলাম উদ্দিনের ছেলে শাহান মিয়া (২৫) ও আব্দুল গণির ছেলে সাজিদুর রহমান (২৮)। একই উপজেলার রাজানগর ইউনিয়নের ররনারচর গ্রামের আব্দুল মালিকের ছেলে উপজেলা যুবদলের সদস্য মজিবুর রহমান (৩৮), জগদল ইউনিয়নের বাসুরি গ্রামের সোহানুর রহমান এহিয়া (২৮), করিমপুর ইউনিয়নের মাটিয়াপুর গ্রামের তায়েফ মিয়া (৩০) মারা যান। এছাড়াও দোয়ারাবাজার উপজেলার দোহালিয়া ইউনিয়নের কবিরপুর গ্রামের ফয়েজ উদ্দিনের ছেলে আবু ফাহিমও মারা গেছেন।

সম্পাদকীয় :

  • সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : মো. জিয়াউল হক
  • সম্পাদক ও প্রকাশক : বিজন সেন রায়
  • বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : মোক্তারপাড়া রোড, সুনামগঞ্জ-৩০০০।

অফিস :

  • ই-মেইল : [email protected]
  • ওয়েবসাইট : www.sunamkantha.com