শাল্লায় নিরীহ পরিবারের বাসা দখলে ঘোষণা দিয়ে হামলা

আপলোড সময় : ১০-০৪-২০২৬ ০৯:৫৩:২২ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ১০-০৪-২০২৬ ০৯:৫৪:৩৩ পূর্বাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার::
শাল্লা উপজেলা সদরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের পিছনে অবস্থিত এক নিরীহ পরিবারের বাসা দলবল নিয়ে এসে দখল করতে ভেঙে দিয়েছে প্রভাবশালী গোষ্ঠী। বৃহস্পতিবার বিকেলে সাড়ে ৫টার দিকে হামলাকারীরা কলেজ রোডের আধ পাকা ওই বাসায় এসে হাতুড়ি, শাবল নিয়ে ভাঙচুর শুরু করে। এসময় ঘরে ঢুকে নারীদের মারধরসহ বাসার মূল্যবান জিনিষপত্রও লুট করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
স্থানীয়রা জানান, শাল্লা কলেজ রোডের পশ্চিম অংশে সরকারি খাস ভূমি একসনা বন্দোবস্ত নিয়ে দুই দশক ধরে ১০-১৫টি পরিবার বাড়িঘর তৈরি করে বসবাস করছে। একটি ভিটায় কান্দিগাঁও গ্রামের আব্দুল মান্নানও দুই দশক ধরে আধপাকা ঘর করে সপরিবারে বসবাস করছেন। বাসাটি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় থেকে ৫০ গজ পিছনে ও থানা থেকে প্রায় ৫০০-৬০০ গজ পিছনে। সম্প্রতি ইয়ারাবাদ গ্রামের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ইকবাল মিয়া ওই বাসাটি দখলের জন্য হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছিলেন। নিরীহ আব্দুল মন্নান ঘটনাটি উপজেলা প্রশাসন ও থানাকেও অবগত করেন। কিছুদিন আগে থানায় তিন দফা বৈঠক হয়। ইকবাল যে কোনও মূল্যেই বাসাটি দখল নিতে মরিয়া হয়ে ওঠেন। দখলের ঘোষণা দিয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে হাতুড়ি, শাবলসহ বিভিন্ন অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালান। এসময় ঘরে থাকা নারীরা প্রতিবাদ করলে তাদের বেধড়ক মারধর করেন ইকবাল ও তার লোকজন। তারা ঘরের দুই নারীকে মারধর করে। পরে তাদেরকে শাল্লা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী আব্দুল মান্নান বলেন, আমি ২০ বছর ধরে এখানে অর্ধ পাকা ঘর করে বসবাস করছি। আমার মতো আরো ১০-১৫টি পরিবার আছে। কিন্তু হঠাৎ করে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ইকবাল ও তার লোকজন বাসাটি দখল করতে ওঠে পড়ে লাগে। আমি প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছি। তিনবার থানায় মিটিং হয়েছে। কিন্তু পুলিশ ন্যায়ের পক্ষ না নিয়ে, আমার কাগজপত্র না দেখে হামলাকারীর পক্ষ নেয়। আজ ঘোষণা দিয়ে আমার বাসায় ভাঙচুর, লুটপাট ও নারীদের নির্যাতন করেছে। আমি এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছি।
অভিযুক্ত ইকবাল আহমদের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলেও তিনি ফোন ধরেননি।
শাল্লা থানার ওসি রাকিবুজ্জামান থানায় দুই পক্ষকে নিয়ে বৈঠকের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, আজ এটা নিয়ে বসার তারিখ ছিল। কিন্তু এর আগেই ইকবাল দলবল নিয়ে বাসায় হামলা চালিয়েছেন। তিনি হামলাকারীদের পক্ষ নিয়েছেন এই অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, আমি বিষয়টি ইউএনও মহোদয়কে দেখার অনুরোধ করেছিলাম। আমি কারো পক্ষে নই।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পিয়াস চন্দ্র দাস বলেন, আমার অফিসের পিছনেই সরকারি জায়গায় ১০-১৫টি পরিবার বসবাস করে। আব্দুল মান্নানও বসবাস করেন। তবে এ নিয়ে কিছুদিন ধরে ইকবাল নামের আরেক ব্যক্তি দাবি করেন এই ভিটা তার জায়গা। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছিল।
আজ (বৃহস্পতিবার) ইকবাল ও তার লোকজন বাড়িতে হামলা করেছে। এটা দুঃখজনক, এভাবে একটি বাসায় হামলা ও ভাঙচুর করা অনুচিত। আমি ওসি সাহেবকে বলেছি হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য।

সম্পাদকীয় :

  • সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : মো. জিয়াউল হক
  • সম্পাদক ও প্রকাশক : বিজন সেন রায়
  • বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : মোক্তারপাড়া রোড, সুনামগঞ্জ-৩০০০।

অফিস :

  • ই-মেইল : [email protected]
  • ওয়েবসাইট : www.sunamkantha.com