সুনামগঞ্জের উন্নয়ন দাবিতে সংসদে এমপি নূরুল ইসলামের উচ্চারণ

যৌক্তিক দাবিগুলো বাস্তবায়নে সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে

আপলোড সময় : ১৮-০৪-২০২৬ ১০:০০:৪৩ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ১৮-০৪-২০২৬ ১০:০০:৪৩ পূর্বাহ্ন
সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নূরুল ইসলাম নূরুল সম্প্রতি জাতীয় সংসদে যে একগুচ্ছ দাবি উত্থাপন করেছেন, তা কেবল একটি নির্বাচনী এলাকার উন্নয়ন চাহিদা নয়; বরং হাওরাঞ্চলের দীর্ঘদিনের অবহেলা, বঞ্চনা ও কাঠামোগত সমস্যার একটি সুস্পষ্ট প্রতিফলন। রেললাইন স্থাপন, সুরমা নদীর উপর নতুন সেতু, শুল্ক স্টেশন প্রতিষ্ঠা, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, হাওরের পানি নিষ্কাশন ও নদীভাঙন প্রতিরোধ - এসব দাবি বাস্তবায়িত হলে সুনামগঞ্জের সামগ্রিক অর্থনীতি ও জীবনমান বদলে যেতে পারে। সুনামগঞ্জকে ‘হাওরের রাজধানী’ বলা হলেও বাস্তবতা হলো, এখানকার মানুষের জীবন-জীবিকা এখনও একমাত্র বোরো ফসলের ওপর নির্ভরশীল। প্রতিবছর ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণে বিপুল অর্থ ব্যয় হলেও সঠিক পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের অভাবে তা অনেক সময় ‘মরণ ফাঁদে’ পরিণত হচ্ছে। অকাল বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ফসল তলিয়ে যাওয়ার ঘটনা নতুন নয়। ফলে পরিকল্পিত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা, টেকসই বাঁধ নির্মাণ এবং পর্যাপ্ত স্লুইস গেট স্থাপন এখন সময়ের দাবি। যোগাযোগ অবকাঠামোর দুরবস্থাও সুনামগঞ্জের উন্নয়নের প্রধান অন্তরায়। সারা দেশের সঙ্গে কার্যত একটি মাত্র সড়কপথে নির্ভরশীল এই জেলার জন্য বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। ঢাকা-সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের উন্নয়ন প্রকল্পের সঙ্গে সুনামগঞ্জকে যুক্ত করা হলে বাণিজ্য, পর্যটন ও বিনিয়োগের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে। একই সঙ্গে রেললাইন স্থাপনের দাবি অত্যন্ত যৌক্তিক, যা এই অঞ্চলকে জাতীয় অর্থনীতির মূলধারার সঙ্গে আরও দৃঢ়ভাবে সংযুক্ত করবে। সুরমা নদীর উত্তরপাড়ের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি একটি নতুন সেতু। হালুয়ারঘাট-ধারারগাঁও সেতু নির্মাণ হলে হাজারো মানুষের যাতায়াত সহজ হবে এবং স্থানীয় অর্থনীতি চাঙ্গা হবে। পাশাপাশি ডলুরা এলাকায় শুল্ক স্টেশন স্থাপন সীমান্ত বাণিজ্য সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। নদীভাঙন সুনামগঞ্জের আরেকটি বড় সমস্যা। প্রতি বছর অসংখ্য পরিবার তাদের বসতভিটা হারাচ্ছে। নদী তীর সংরক্ষণে দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর প্রকল্প গ্রহণ ছাড়া এ সমস্যা থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়। একইভাবে পৈন্দা ও চলতি নদীর উপর সেতু নির্মাণের দাবিও স্থানীয় যোগাযোগ ব্যবস্থাকে গতিশীল করবে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, শিক্ষার ক্ষেত্রে সুনামগঞ্জের অবস্থান দেশের প্রায় সর্বনি¤œ পর্যায়ে। একটি জেলার সার্বিক উন্নয়নের জন্য শিক্ষা খাতকে অগ্রাধিকার না দিলে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি মানবসম্পদ উন্নয়নেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। সংসদে উত্থাপিত এসব দাবি নিঃসন্দেহে সময়োপযোগী ও বাস্তবসম্মত। তবে শুধু দাবি উত্থাপনেই দায়িত্ব শেষ হয় না; প্রয়োজন কার্যকর পরিকল্পনা, স্বচ্ছ বাস্তবায়ন এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছা। অতীতের অভিজ্ঞতা বলে, অনেক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অভাবে জনআস্থা ক্ষুণœ হয়েছে। এবার যেন সেই পুনরাবৃত্তি না ঘটে। সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর প্রতি আহ্বান- সুনামগঞ্জের এই যৌক্তিক দাবিগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিন। হাওরাঞ্চলের মানুষ আর প্রতিশ্রুতি নয়, দেখতে চায় দৃশ্যমান উন্নয়ন। এখনই সময়, সুনামগঞ্জকে সত্যিকার অর্থে উন্নয়নের মূল ¯্রােতে নিয়ে আসার।

সম্পাদকীয় :

  • সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : মো. জিয়াউল হক
  • সম্পাদক ও প্রকাশক : বিজন সেন রায়
  • বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : মোক্তারপাড়া রোড, সুনামগঞ্জ-৩০০০।

অফিস :

  • ই-মেইল : [email protected]
  • ওয়েবসাইট : www.sunamkantha.com