মুহাম্মদ হাবীবুল্লাহ হেলালী ::
দোয়ারাবাজার উপজেলার অন্যতম শীর্ষ দ্বীনি বিদ্যাপীঠ ‘লামাসানিয়া জামেয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা’ বর্তমানে নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত। ১৯৯২ সালে দাখিল মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রতিষ্ঠানটি সুনামের সাথে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসলেও দীর্ঘ তিন দশকেও কাটেনি এর আবাসন ও যাতায়াত দুর্ভোগ। জরাজীর্ণ একাডেমিক ভবন, অসমাপ্ত নির্মাণকাজ আর কাঁচা সড়ক এখন শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিত্যদিনের সঙ্গী।
মাদ্রাসা সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালে প্রতিষ্ঠানটি আলিম (দ্বাদশ শ্রেণি) পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে। বর্তমানে এখানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৯ শতাধিক। কিন্তু সেই তুলনায় বাড়েনি অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা। পর্যাপ্ত একাডেমিক ভবন না থাকায় গাদাগাদি করে চলছে পাঠদান। বিশেষ করে ছাত্রীদের জন্য কোনো ‘কমন রুম’ না থাকায় নারী শিক্ষার্থীদের চরম বিব্রতকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়। এছাড়া ২৭ জন শিক্ষক-কর্মচারী পদের বিপরীতে ৯টি পদই শূন্য থাকায় শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, মাদ্রাসার পূর্ব দিকে যাতায়াতের প্রধান সড়কটির প্রায় এক কিলোমিটার অংশ এখনো কাঁচা। ফলে বর্ষা মৌসুমে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের হাঁটু সমান কাদা মাড়িয়ে যাতায়াত করতে হয়। এছাড়া সীমানা প্রাচীর ও প্রবেশ গেট না থাকায় ক্যাম্পাসটি অনেকটা অরক্ষিত ও অনিরাপদ হয়ে পড়েছে।
মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুর রশীদ আক্ষেপ করে বলেন, শিক্ষার্থী সংখ্যা ক্রমাগত বাড়লেও আমাদের জায়গার সংকুলান হচ্ছে না। একটি ভবনের তৃতীয় তলার কাজ শুরু হলেও অর্থসংকটে তা মাঝপথে থেমে আছে। বর্তমানে পর্যাপ্ত বাথরুম, সীমানা প্রাচীর এবং ১ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা পাকাকরণ আমাদের জন্য অতি জরুরি হয়ে পড়েছে।
প্রতিষ্ঠান উপাধ্যক্ষ মাওলানা জয়নাল আবেদীন জানান, লামাসানিয়া আলিম মাদ্রাসাটি উপজেলা সদর ইউনিয়নের একমাত্র আলিম পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হওয়া সত্ত্বেও এটি চরম অবহেলিত। একাডেমিক ভবন সমস্যা ও মাঠের মাটি ভরাট না হওয়ায় আমরা বিপাকে আছি। আমরা প্রশাসনের সংশ্লিষ্টমহলের পাশাপাশি বিত্তবান ও দানশীল ব্যক্তিদের কাছে সহযোগিতার উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি। প্রয়োজনে অধ্যক্ষের মোবাইল ফোন ( ০১৭২১-০৫৫৩০৭) যোগাযোগ করে যে কেউ আর্থিক সহযোগিতা পাঠাতে পরবেন।