‘জঞ্জালতন্ত্র’ নিয়ে গবেষণামূলক আলোচনা অনুষ্ঠিত

আপলোড সময় : ২৬-০৪-২০২৬ ০১:৪০:৫৭ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২৬-০৪-২০২৬ ০১:৪২:১৪ অপরাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার::
সুনামগঞ্জ শহরের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা জগৎজ্যোতি পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে ‘জঞ্জালতন্ত্র’ বিষয়ক একটি গবেষণামূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় আয়োজিত এ সভায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্টজন অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন লেখক, গবেষক ও ‘লোকবৃত্ত’ পত্রিকার সম্পাদক স্বপন নাথ। তাঁর প্রবন্ধে জঞ্জালতন্ত্রের ধারণা, এর সামাজিক প্রভাব এবং সমকালীন প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে বিশদ বিশ্লেষণ তুলে ধরা হয়। তিনি তাঁর গবেষণায় লোকজ ঐতিহ্য, সামাজিক কাঠামো, মূল্যবোধের বিবর্তন এবং আধুনিকতার প্রভাবকে গুরুত্ব দিয়ে বিশ্লেষণ করেন। তথ্য-উপাত্তনির্ভর আলোচনা ও তাত্ত্বিক দৃষ্টিভঙ্গির সমন্বয়ে বিষয়টিকে তিনি সহজবোধ্য ও প্রাসঙ্গিকভাবে উপস্থাপন করেন। বক্তব্যে স্বপন নাথ বলেন, জঞ্জালতন্ত্র কেবল একটি তাত্ত্বিক ধারণা নয়; বরং এটি বর্তমান সমাজের নানা স্তরে বিদ্যমান জটিলতা, অব্যবস্থা এবং মূল্যবোধের পরিবর্তনের প্রতিফলন। এ বিষয়ে আরও গভীর গবেষণা এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। তিনি আরও বলেন, পরিবেশের সর্বস্তরে দূষণের ভয়াবহ প্রভাব দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। পলিথিনের অবাধ ব্যবহার এবং যত্রতত্র বর্জ্য ফেলার কারণে পরিস্থিতি দিন দিন অবনতির দিকে যাচ্ছে। বিশেষ করে মাইক্রোপ্লাস্টিক ইতোমধ্যে প্রকৃতিতে ছড়িয়ে পড়েছে, যা জলজ প্রাণীরা খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করছে। খাল-বিল, নদী-নালা থেকে শুরু করে সাগর-সমুদ্র পর্যন্ত প্লাস্টিক দূষণ মারাত্মক আকার ধারণ করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর ফলে শুধু জলজ প্রাণী নয়, মানুষের স্বাস্থ্য ও জীববৈচিত্র্যও চরম হুমকির মুখে পড়ছে। স্বপন নাথ বলেন, ফরমালিন ও কীটনাশকের অবাধ ব্যবহার আমাদের জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। খাদ্যে অতিরিক্ত ফরমালিন প্রয়োগ মানুষের শরীরে ক্যান্সারসহ বিভিন্ন জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। একইভাবে, অনিয়ন্ত্রিত কীটনাশক ব্যবহারে মাটি ও পানির গুণগত মান নষ্ট হচ্ছে এবং খাদ্যশৃঙ্খল দূষিত হচ্ছে। এর ফলে মানুষসহ অন্যান্য জীববৈচিত্র্য মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, যেখানে-সেখানে বর্জ্য ফেলার প্রবণতা বাড়ছে, ঘরবাড়ির পাশে, রাস্তা-ঘাটে, এমনকি নদীর তীরেও নিয়মিত ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। এতে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে। পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য সম্মিলিত উদ্যোগ ও সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মানুষের দৈনন্দিন আচরণেই পরিবর্তন আনতে হবে। তাহলেই এই জঞ্জালতান্ত্রিক অবস্থা থেকে উত্তরণ সম্ভব। স্বপন নাথ আরও উল্লেখ করেন, গ্রামীণ সমাজের জীবনযাপন, সংস্কৃতি ও সমস্যাকে সামনে এনে এ ধরনের বৌদ্ধিক আলোচনা সমাজ সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নীতি নির্ধারণে সহায়ক ভূমিকা রাখে। সভায় উপস্থিত ছিলেন শিক্ষাবিদ প্রফেসর পরিমল কান্তি দে, প্রফেসর সৈয়দ মহিবুল ইসলাম, লেখক সুখেন্দু সেন, লেখক ও কবি কুমার সৌরভ, দৈনিক সুনামকণ্ঠের সম্পাদক বিজন সেন রায়, কবি ইকবাল কাগজী, অ্যাডভোকেট চাঁন মিয়া,গবেষক সুবাস উদ্দিন, কবি ও লেখক এনামুল কবির, লেখক এসডি সুব্রত, প্রভাষক দুলাল মিয়া, প্রভাষক কবির মিয়া, প্রভাষক হাবিবুল্লাহ তালুকদার, শিক্ষক সাজাউর রহমান, শিক্ষক সুবল বিশ্বাস, শিক্ষক অনুপ নারায়ণ তালুকদার, শিক্ষক হারেস মিয়া, সিনিয়র সাংবাদিক আকরাম উদ্দিন, কবি ওবায়দুল হক মুন্সী, ওবায়দুল হক মিলন, শিক্ষক রইসুজ্জামান, গোপেন্দ্র সমাজপতি, বাউল লাল শাহ, দেওয়ান আব্দুল ওদুদ প্রমুখ।

সম্পাদকীয় :

  • সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : মো. জিয়াউল হক
  • সম্পাদক ও প্রকাশক : বিজন সেন রায়
  • বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : মোক্তারপাড়া রোড, সুনামগঞ্জ-৩০০০।

অফিস :

  • ই-মেইল : [email protected]
  • ওয়েবসাইট : www.sunamkantha.com