ছাতকের বাগেছড়া হাওর

বাঁধ ভেঙে তলিয়ে গেল ধান, ক্ষতিগ্রস্ত ২২ গ্রামের কৃষক

আপলোড সময় : ৩০-০৪-২০২৬ ১২:৫৮:০২ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ৩০-০৪-২০২৬ ১২:৫৮:০২ পূর্বাহ্ন
ছাতক প্রতিনিধি :: পাহাড়ি ঢল ও টানা ভারী বৃষ্টিতে ছাতক উপজেলার বাগেছড়া (বিল) হাওরের কাঁচা ও আধাপাকা বোরো ধান তলিয়ে গেছে। এতে অন্তত ২৫ হেক্টরেরও বেশি জমির ফসল পানির নিচে ডুবে গিয়ে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন ২২টি গ্রামের হাজারো কৃষক পরিবার। নিজেদের কষ্টার্জিত ফসল হারিয়ে হতাশা ও চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন কৃষকরা। হাওরাঞ্চলে পানি বাড়তে থাকায় তাদের উৎকণ্ঠাও বাড়ছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার অন্যান্য হাওরে পাকা ধান মাঠে থাকলেও শ্রমিক সংকটের কারণে সময়মতো ধান কাটা যাচ্ছে না। অন্যদিকে জমিতে পানি থাকায় হারভেস্টার মেশিন নামানোও সম্ভব হচ্ছে না। ফলে পাকা ধান ঘরে তোলা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এদিকে টানা বৃষ্টি ও রোদের অভাবে ঘরে তোলা ধান শুকাতে না পারায় অনেক জায়গায় ধানে অঙ্কুর গজাতে শুরু করেছে। এতে কৃষকরা আরও বড় ক্ষতির আশঙ্কা করছেন। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও প্রশাসনের অবহেলায় ফসল রক্ষা বাঁধ ভেঙে এ বিপর্যয় ঘটেছে। চলতি বোরো মৌসুমে ছাতক উপজেলায় ২৭টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) বিপরীতে প্রায় ৩ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি হাওর প্রকল্পের আওতার বাইরে থেকে যায়। কৃষকদের দাবি, বাগেছড়া বিলসহ কয়েকটি হাওরকে পিআইসির আওতায় আনার জন্য তারা দীর্ঘদিন ধরে আবেদন করে আসছিলেন। ২০২৫ সালের ১১ ডিসেম্বর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং ২০২৬ সালের ২৩ জানুয়ারি জেলা প্রশাসকের কাছেও লিখিত আবেদন করা হয়। চলতি বছরেও পুনরায় আবেদন করা হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। সরকারি সহায়তা না পেয়ে স্থানীয় কৃষকরা নিজেদের উদ্যোগে বাঁধ নির্মাণ করলেও কারিগরি সহায়তা ও তদারকির অভাবে ঢল ও বৃষ্টিতে তা ভেঙে যায়। ফলে হাওরে পানি ঢুকে তলিয়ে যায় কাঁচা ও আধাপাকা ধান। ক্ষুব্ধ কৃষকরা বলেন, সময়মতো ব্যবস্থা নিলে আজ আমাদের এই সর্বনাশ হতো না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবহেলাই আমাদের স্বপ্ন ডুবিয়েছে। ছাতক উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী সৈয়দুজ্জামান নাহিদ বলেন, যেসব হাওর বোর্ডের আওতাভুক্ত নয়, সেসব স্থানে পিআইসির মাধ্যমে কাজ করা হয় না। তবে ভবিষ্যতে প্রয়োজন অনুযায়ী এসব হাওরকে আওতায় আনার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। হাওর বাঁচাও আন্দোলন সুনামগঞ্জ জেলা কমিটির সাংগঠনিক স¤পাদক জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী অভিযোগ করেন, একাধিক হাওরের বাঁধ নির্মাণে অনিয়ম ও অপরিকল্পিত কাজ হয়েছে। বাগেছড়া হাওরকে পিআইসির আওতায় আনা হলে এমন ক্ষতির মুখে পড়তে হতো না। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও একই অভিযোগ করেন। ইউপি সদস্য নাছির উদ্দিন বলেন, কৃষকরা বারবার চেষ্টা করেও হাওরটিকে প্রকল্পের আওতায় আনতে পারেননি। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন জানান, অন্তত ১৫টিরও বেশি গ্রামের কৃষক সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ছাতক উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তৌফিক হোসেন খান জানান, বাগেছড়া হাওরে প্রায় ৩৭ হেক্টর আবাদি জমি রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২০ হেক্টর জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ডিপ্লোমেসি চাকমা বলেন, পূর্বে হাওরটি পিআইসির আওতায় ছিল না। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হতো। ভবিষ্যতে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।

সম্পাদকীয় :

  • সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : মো. জিয়াউল হক
  • সম্পাদক ও প্রকাশক : বিজন সেন রায়
  • বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : মোক্তারপাড়া রোড, সুনামগঞ্জ-৩০০০।

অফিস :

  • ই-মেইল : [email protected]
  • ওয়েবসাইট : www.sunamkantha.com