বিশ্বজিত রায় ::
সকালে আকাশ কিছুটা ঘুলাটে থাকলেও বেলা বাড়ার সাথে সাথে রোদের দেখা পেয়েছে কৃষক। স্বস্তির এই রোদে ধান কাটা, মাড়াই ও শুকানোর কাজে তুমুল ব্যস্ততা দেখা যায় হাওরে। যদিও খনিকের এই রোদের স্থায়িত্ব কম, তারপরও শেষ সম্বল ঘরে তুলতে বসে নেই সুনামগঞ্জের মানুষ। তবে হাওরাঞ্চলে রোদ উঠলেও নদ-নদীর পানি বাড়তে থাকায় শঙ্কা কাটেনি। ফলনের একটা অংশ এমনিতেই জলাবদ্ধতায় নষ্ট হয়েছে। তার সাথে কর্তনকৃত ধানে অংকুর গজানোর অবস্থা হওয়ায় কৃষকের মাঝে চরম হতাশা কাজ করছিল। শেষ পর্যন্ত রোদ উঠায় স্বস্তি ফিরে এসেছে মানুষের মনে।
এদিকে, হাওরে শ্রমিক সংকট কাটাতে সকল বালুমহাল ২০ এপ্রিল থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত ১০ দিন বন্ধের নির্দেশনা দিয়েছিল জেলা প্রশাসন। এবার সে কার্যক্রম ১ মে থেকে ৫ মে পর্যন্ত ৫ দিন বাড়ানো হয়েছে। জেলা প্রশাসনের রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর এস এম ইয়াসীর আরাফাত স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বোরো ধান কাটার মৌসুমে ব্যাপক শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে। বোরো ধান দেশের প্রধান খাদ্যশস্য এবং এটি সময় মতো ঘরে তোলা অত্যন্ত জরুরী। শ্রমিকের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিতে জেলার সকল বালুমহালে আরও ৫ দিন বালু উত্তোলন বন্ধের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সরেজমিনে সুনামগঞ্জ-সাচনা বাজার সড়কসংলগ্ন ছনুয়ার হাওরে গিয়ে দেখা যায়, রোদ উঠায় কেউ স্তূপকৃত ধান শুকিয়ে বস্তাবন্দী করছেন। কেউ ধান কাটছেন, কেউ ধান কেটে হাওরের উঁচু জায়গায় এনে স্তূপ করছেন।
ধান টেনে পারে তুলছিলেন সাচনা বাজার ইউনিয়নের ফতেপুর গ্রামের কৃষক মো. রইছ উদ্দিন ও পলক গ্রামের কৃষক মো. মোয়াজ্জেম হোসেন। রোদে স্বস্তি প্রকাশ করে তারা বলেন, দিনটা ভালো করায় ধান কাটতে আইছি। অনেক জমি পানিতে তলাইছে। যেটুকু জাইগা আছে সেটুকু কাটার চেষ্টা করতাছি। এইভাবে রোদ দিলে অন্তত খানি-খোড়াকের বোঝ তুলন যাইব। বৃষ্টি দিলে বৌ-বাচ্চা লইয়া উপাস থাকন লাগব।
শান্তিগঞ্জ উপজেলার জয়কলস ইউনিয়নের আস্তমা গ্রামের কৃষক আঙ্গুর মিয়া বলেন, সোনালী ফলন নষ্ট হতে দেখে অনেকেই হাল ছেড়ে দিয়েছে। রোদের দেখা পাওয়ায় সবার মনে আশা জেগেছে। যদিও পাগনা হাওরে ৬০ শতাংশ ধান কাটার বাকি, তারপরও সবাই ধান শুকানো ও কাটার কাজে মহাব্যস্ত। এ রকম রোদ দিলে জলমগ্ন ধান কাটতে মানুষ আগ্রহী হবে।
জেলা কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতি দুপুর পর্যন্ত সুনামগঞ্জের হাওরে গড়ে ৫০ দশমিক ৮২ শতাংশ ধান কর্তন করা হয়েছে। ১ লাখ ১৩ হাজার ৫৮৬ হেক্টর জমির ধান কাটা হয়েছে এ পর্যন্ত। ১ লাখ ৯ হাজার ৯২৫ হেক্টর জমির ধান কাটা এখনও বাকি আছে হাওরে। সুনামগঞ্জের ১২ উপজেলার ১৩৭টি হাওরে এ বছর ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। যার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ১৪ লাখ মেট্রিক টন। উৎপাদিত বোরো ধানের মূল্য প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা। রোদ উঠলেও সুনামগঞ্জের নদ-নদীর পানি কমেনি বরং বেড়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তথ্য অনুযায়ী, সুনামগঞ্জে বুধবার সকাল থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টি হয়েছে ৮ মিলিমিটার। সুরমা নদীর পানি বেড়েছে ১৮ সেন্টিমিটার। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, গতকালের চেয়ে আজ (বৃহস্পতিবার) সকাল পর্যন্ত সুনামগঞ্জের নদ-নদীর পানি কিছুটা বেড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সুরমা নদীতে প্রায় ২০ সেন্টিমিটার এবং কুশিয়ারা নদীতে প্রায় ৬০ সেন্টিমিটার পানি বেড়েছে। এদিকে, ৪ এপ্রিল পর্যন্ত ভারি বৃষ্টিপাতের আশঙ্কার কথা আগেই জানিয়ে রেখেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর ও বন্যা সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, এ পর্যন্ত হাওরের প্রায় অর্ধেক ধান কাটা হয়েছে। রোদ দেওয়ায় কৃষকের মাঝে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। দ্রুত ধান শুকানো থেকে শুরু করে কাটার বাকি অংশ তাড়াতাড়ি কাটতে হবে। এতে অবহেলা করলে চলবে না।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার জানিয়েছেন, বুধ ও বৃহস্পতিবার বৃষ্টি কম হওয়াটা স্বস্তির। রোদ ওঠায় কৃষক হাওরে ধান কাটা ও মাড়াইয়ে স্বস্তি বোধ করছেন।
সকালে আকাশ কিছুটা ঘুলাটে থাকলেও বেলা বাড়ার সাথে সাথে রোদের দেখা পেয়েছে কৃষক। স্বস্তির এই রোদে ধান কাটা, মাড়াই ও শুকানোর কাজে তুমুল ব্যস্ততা দেখা যায় হাওরে। যদিও খনিকের এই রোদের স্থায়িত্ব কম, তারপরও শেষ সম্বল ঘরে তুলতে বসে নেই সুনামগঞ্জের মানুষ। তবে হাওরাঞ্চলে রোদ উঠলেও নদ-নদীর পানি বাড়তে থাকায় শঙ্কা কাটেনি। ফলনের একটা অংশ এমনিতেই জলাবদ্ধতায় নষ্ট হয়েছে। তার সাথে কর্তনকৃত ধানে অংকুর গজানোর অবস্থা হওয়ায় কৃষকের মাঝে চরম হতাশা কাজ করছিল। শেষ পর্যন্ত রোদ উঠায় স্বস্তি ফিরে এসেছে মানুষের মনে।
এদিকে, হাওরে শ্রমিক সংকট কাটাতে সকল বালুমহাল ২০ এপ্রিল থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত ১০ দিন বন্ধের নির্দেশনা দিয়েছিল জেলা প্রশাসন। এবার সে কার্যক্রম ১ মে থেকে ৫ মে পর্যন্ত ৫ দিন বাড়ানো হয়েছে। জেলা প্রশাসনের রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর এস এম ইয়াসীর আরাফাত স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বোরো ধান কাটার মৌসুমে ব্যাপক শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে। বোরো ধান দেশের প্রধান খাদ্যশস্য এবং এটি সময় মতো ঘরে তোলা অত্যন্ত জরুরী। শ্রমিকের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিতে জেলার সকল বালুমহালে আরও ৫ দিন বালু উত্তোলন বন্ধের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সরেজমিনে সুনামগঞ্জ-সাচনা বাজার সড়কসংলগ্ন ছনুয়ার হাওরে গিয়ে দেখা যায়, রোদ উঠায় কেউ স্তূপকৃত ধান শুকিয়ে বস্তাবন্দী করছেন। কেউ ধান কাটছেন, কেউ ধান কেটে হাওরের উঁচু জায়গায় এনে স্তূপ করছেন।
ধান টেনে পারে তুলছিলেন সাচনা বাজার ইউনিয়নের ফতেপুর গ্রামের কৃষক মো. রইছ উদ্দিন ও পলক গ্রামের কৃষক মো. মোয়াজ্জেম হোসেন। রোদে স্বস্তি প্রকাশ করে তারা বলেন, দিনটা ভালো করায় ধান কাটতে আইছি। অনেক জমি পানিতে তলাইছে। যেটুকু জাইগা আছে সেটুকু কাটার চেষ্টা করতাছি। এইভাবে রোদ দিলে অন্তত খানি-খোড়াকের বোঝ তুলন যাইব। বৃষ্টি দিলে বৌ-বাচ্চা লইয়া উপাস থাকন লাগব।
শান্তিগঞ্জ উপজেলার জয়কলস ইউনিয়নের আস্তমা গ্রামের কৃষক আঙ্গুর মিয়া বলেন, সোনালী ফলন নষ্ট হতে দেখে অনেকেই হাল ছেড়ে দিয়েছে। রোদের দেখা পাওয়ায় সবার মনে আশা জেগেছে। যদিও পাগনা হাওরে ৬০ শতাংশ ধান কাটার বাকি, তারপরও সবাই ধান শুকানো ও কাটার কাজে মহাব্যস্ত। এ রকম রোদ দিলে জলমগ্ন ধান কাটতে মানুষ আগ্রহী হবে।
জেলা কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতি দুপুর পর্যন্ত সুনামগঞ্জের হাওরে গড়ে ৫০ দশমিক ৮২ শতাংশ ধান কর্তন করা হয়েছে। ১ লাখ ১৩ হাজার ৫৮৬ হেক্টর জমির ধান কাটা হয়েছে এ পর্যন্ত। ১ লাখ ৯ হাজার ৯২৫ হেক্টর জমির ধান কাটা এখনও বাকি আছে হাওরে। সুনামগঞ্জের ১২ উপজেলার ১৩৭টি হাওরে এ বছর ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। যার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ১৪ লাখ মেট্রিক টন। উৎপাদিত বোরো ধানের মূল্য প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা। রোদ উঠলেও সুনামগঞ্জের নদ-নদীর পানি কমেনি বরং বেড়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তথ্য অনুযায়ী, সুনামগঞ্জে বুধবার সকাল থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টি হয়েছে ৮ মিলিমিটার। সুরমা নদীর পানি বেড়েছে ১৮ সেন্টিমিটার। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, গতকালের চেয়ে আজ (বৃহস্পতিবার) সকাল পর্যন্ত সুনামগঞ্জের নদ-নদীর পানি কিছুটা বেড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সুরমা নদীতে প্রায় ২০ সেন্টিমিটার এবং কুশিয়ারা নদীতে প্রায় ৬০ সেন্টিমিটার পানি বেড়েছে। এদিকে, ৪ এপ্রিল পর্যন্ত ভারি বৃষ্টিপাতের আশঙ্কার কথা আগেই জানিয়ে রেখেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর ও বন্যা সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, এ পর্যন্ত হাওরের প্রায় অর্ধেক ধান কাটা হয়েছে। রোদ দেওয়ায় কৃষকের মাঝে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। দ্রুত ধান শুকানো থেকে শুরু করে কাটার বাকি অংশ তাড়াতাড়ি কাটতে হবে। এতে অবহেলা করলে চলবে না।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার জানিয়েছেন, বুধ ও বৃহস্পতিবার বৃষ্টি কম হওয়াটা স্বস্তির। রোদ ওঠায় কৃষক হাওরে ধান কাটা ও মাড়াইয়ে স্বস্তি বোধ করছেন।