সুনামগঞ্জ , শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬ , ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জামালগঞ্জে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপির প্রস্তুতিমূলক সভা বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারির দাফনে বাধা, সুনামগঞ্জে তীব্র ক্ষোভ সুরমা নদীতে টোল আদায় করতে না পেরে বিপাকে ইজারাদার ফুটবল খেলা নিয়ে দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক আহত তরুণ-তরুণীর বিয়েকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষ : আহত ২০ হাওরে বোরোর মনগড়া লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে ক্ষোভ নির্মাণকাজে অনিয়মের সত্যতা মিলেছে, বন্ধ ঠিকাদারের বিল শ্রমিক অসন্তোষে বন্ধ ৪৬৯ পোশাক কারখানা প্রতি মাসে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে ১০ হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ ডিলারের লাইসেন্স ব্যবহার করে সরকারি কার্যালয়ে বীজের মজুত ও বিক্রির অভিযোগ জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রভাব মওসুমের এক মাস আগেই শুকিয়েছে বীজতলা, বিপাকে হাওরের কৃষক সড়ক নির্মাণে দুর্নীতি আড়াল করতেই এমপি’র বিরুদ্ধে অপপ্রচার, লুটপাটকারীদের বিচারের দাবি জন্মান্ধ স্বামী, এক চোখে দেখেন স্ত্রী, মানুষের সাহায্যে চলে সংসার শঙ্কা মাথায় নিয়ে বোরো আবাদের প্রস্তুতি জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপনে প্রস্তুতি সভা পোশাক কারখানা সচল রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ বাবা-মা-ভাইবোনসহ ছাত্রলীগ নেতার পুরো পরিবার গ্রেফতার, সঙ্গে ৩ বন্ধুও শীতকালীন সবজি চাষে নেই প্রণোদনা, ভালো দাম, প্রকৃতি ভরসা কৃষকের জাতীয় যুব দিবস পালিত ছাতকে আমন ধান কাটা উৎসব

১৬ ঘণ্টার লোডশেডিং, মানুষের ভোগান্তি দ্রুত নিরসন করুন

  • আপলোড সময় : ০৯-০৮-২০২৬ ০১:৪৫:০৮ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ০৯-০৮-২০২৬ ০১:৪৫:০৮ অপরাহ্ন
১৬ ঘণ্টার লোডশেডিং, মানুষের ভোগান্তি দ্রুত নিরসন করুন
সুনামগঞ্জের গ্রামেগঞ্জে দিনে-রাতে মিলিয়ে ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিংয়ের অভিযোগ নিছক বিদ্যুৎ বিভ্রাটের খবর নয়; এটি জনজীবন, শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও গ্রামীণ অর্থনীতির ওপর সরাসরি আঘাত। বিদ্যুতের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে বড় ধরনের ঘাটতি থাকতেই পারে। কিন্তু সেই ঘাটতির দায়ে সাধারণ মানুষকে দিনের পর দিন অনিশ্চয়তা ও সীমাহীন ভোগান্তির মধ্যে রাখা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। সুনামগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন ১২ উপজেলায় প্রায় ৩ লাখ ৭৫ হাজার গ্রাহক রয়েছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, জেলার চাহিদা যেখানে প্রায় ৭০ থেকে ৭৫ মেগাওয়াট, সেখানে সরবরাহ করা হচ্ছে মাত্র ৩৫ থেকে ৪০ মেগাওয়াট। অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় সরবরাহের ঘাটতি ভয়াবহ। এর ফলে বিভিন্ন এলাকায় ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত লোডশেডিং করতে হচ্ছে। পরিস্থিতি যে সংকটজনক, এই পরিসংখ্যানই তার প্রমাণ। কিন্তু প্রশ্ন হলো- এই সংকট মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা কোথায়? গ্রাহকদের অভিযোগ, কখন বিদ্যুৎ থাকবে আর কখন থাকবে না - তার কোনো নির্ভরযোগ্য সময়সূচি নেই। তার চেয়েও উদ্বেগজনক বিষয়, জরুরি সেবা নম্বর ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মুঠোফোনে যোগাযোগ করেও অনেক সময় সাড়া পাওয়া যায় না। একজন গ্রাহক যখন ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন অবস্থায় থাকেন, তখন অন্তত সমস্যার কারণ এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাব্য সময় জানার অধিকার তাঁর রয়েছে। বিদ্যুৎ শুধু একটি সেবা নয়; আধুনিক জীবনের প্রায় প্রতিটি কর্মকা-ের সঙ্গে এটি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বিশেষ করে সামনে বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষা। বিদ্যুৎহীন অবস্থায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। গ্রামের অনেক শিক্ষার্থীর বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে জেনারেটর, আইপিএস কিংবা পর্যাপ্ত আলো ব্যবহারের সুযোগ নেই। ফলে দীর্ঘ লোডশেডিং তাদের শিক্ষাজীবনে সরাসরি বৈষম্য তৈরি করছে। অন্যদিকে প্রচ- গরমে বিদ্যুৎ না থাকায় বয়স্ক, শিশু ও নারীদের দুর্ভোগ বাড়ছে। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ক্ষুদ্র ব্যবসা, স্টুডিও, স্টেশনারি দোকান, রেস্টুরেন্ট, লাইব্রেরি, চালকল ও বিভিন্ন খামার। বিদ্যুৎনির্ভর যন্ত্রপাতি বন্ধ থাকায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, নষ্ট হচ্ছে পণ্য, কমছে আয়। অর্থাৎ লোডশেডিংয়ের প্রভাব শুধু ঘরের বাতি নিভিয়ে দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এটি গ্রামীণ অর্থনীতির গতিও মন্থর করে দিচ্ছে। সবচেয়ে হতাশার বিষয় হলো, নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করেও গ্রাহকেরা কাক্সিক্ষত সেবা পাচ্ছেন না। বিদ্যুৎ সরবরাহে সংকট থাকলে গ্রাহকেরা নিশ্চয়ই তা বুঝবেন। কিন্তু সংকটের সময়ও কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীল যোগাযোগ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। কোনো এলাকায় কতক্ষণ লোডশেডিং হবে, কেন হচ্ছে এবং কখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে - এসব তথ্য নিয়মিতভাবে জানানো জরুরি। বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে সাড়া না পাওয়ার অভিযোগও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা দরকার। জরুরি সেবা নম্বর যদি জরুরি সময়ে কাজে না আসে, তাহলে সেই নম্বর রাখার যৌক্তিকতা কী? সাধারণ গ্রাহকের ফোন না ধরার সংস্কৃতি কোনোভাবেই একটি জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। জনগণের অর্থে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের জনগণের কাছে জবাবদিহি থাকতে হবে। আমরা মনে করি, সুনামগঞ্জের বিদ্যুৎ সংকটকে সাময়িক সমস্যা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। দ্রুত জাতীয় গ্রিড ও সংশ্লিষ্ট বিতরণব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়ানো, চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজন হলে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে এলাকাভিত্তিক লোডশেডিংয়ের সময়সূচি প্রকাশ ও তা যথাসম্ভব মেনে চলা, জরুরি ফোন নম্বর সচল রাখা এবং গ্রাহকদের অভিযোগ গ্রহণ ও দ্রুত নি®পত্তির কার্যকর ব্যবস্থা চালু করা জরুরি। সুনামগঞ্জের মানুষ বিদ্যুৎ বিভাগের কাছে কোনো অনুগ্রহ চাচ্ছেন না; তাঁরা তাঁদের প্রাপ্য সেবা চাইছেন। বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহের সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে, কিন্তু দায়িত্বহীনতা ও জবাবদিহির ঘাটতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ১৬ ঘণ্টা লোডশেডিংকে স্বাভাবিক বাস্তবতা হিসেবে মেনে নেওয়া যায় না। এখন প্রয়োজন কার্যকর উদ্যোগ, স্বচ্ছতা এবং গ্রাহকের প্রতি দায়বদ্ধতা।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
হাওরে বোরোর মনগড়া লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে ক্ষোভ

হাওরে বোরোর মনগড়া লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে ক্ষোভ