সুনামগঞ্জ , শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬ , ৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাজারে স্বস্তি নেই, বাড়তি দামে দিশেহারা নিম্ন আয়ের মানুষ যুদ্ধের আগুনে পুড়ছে বিশ্ব, মুনাফায় কারা আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ নেই : তথ্যমন্ত্রী জাউয়াবাজারে ১৩০ পিস ইয়াবাসহ দুইজন গ্রেপ্তার শাল্লায় ফেসবুকে চিরকুট লিখে যুবকের মৃত্যু ভারতীয় ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার আশ্বাস হাইকমিশনারের দিল্লিতে যোগাযোগ করে আ.লীগের সঙ্গে আঁতাত করছে বিএনপি : গোলাম পরওয়ার দিরাইয়ে সাংবাদিক হত্যাও হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন তিন প্রতিবন্ধী সন্তান নিয়ে স্বাধীন-শ্রীমতি দম্পতির জীবনযুদ্ধ: পাশে দাঁড়াচ্ছে সমাজসেবা অধিদপ্তর মোল্লাপাড়ায় প্রবাসীর বাড়ির ফলজ গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ এক মাঠেই ৫২ জাতের ধান, সেরা জাত বাছাইয়ের সুযোগ কৃষকের দেশে সাইবার হামলা নিয়ে উচ্চ সতর্কতা জারি সেতু নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী দেখে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিলেন এমপি কামরুল শারদীয় দুর্গোৎসব সম্পন্ন: নৌকায় কৈলাস ফিরলেন দেবী দুর্গা সম্প্রীতির বন্ধন সুদৃঢ়, এ ধারা অব্যাহত রাখতে হবে : এমপি নূরুল ইসলাম সাফেলা বড় বিল ও কুড়ি বিলে দখল বুঝিয়ে দিতে বাধা শুভ বিজয়া : অশুভের বিনাশ, সম্প্রীতি ও গণতন্ত্রের জয় হোক বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হল শারদীয় দুর্গোৎসব ৩০ অক্টোবর শুরু হচ্ছে হাজীপাড়া ফুটবল প্রিমিয়ার লিগের দ্বিতীয় আসর, ২৩ অক্টোবর প্লেয়ার নিলাম সনাতন ধর্মাবলম্বীরা পূজা করবে আর আনন্দটা সবার, বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ মসিউর রহমান

বাজারে স্বস্তি নেই, বাড়তি দামে দিশেহারা নিম্ন আয়ের মানুষ

  • আপলোড সময় : ২৪-১০-২০২৬ ০৮:৩১:০৭ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২৪-১০-২০২৬ ০৮:৩২:৩৬ পূর্বাহ্ন
বাজারে স্বস্তি নেই, বাড়তি দামে দিশেহারা নিম্ন আয়ের মানুষ
স্টাফ রিপোর্টার::
দিনমজুরের কাজ করে দিনে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা আয় করেন হেলাল মিয়া (৪৫)। তবে প্রতিদিন কাজ পান না। পাঁচ সদস্যের সংসারে তিন সন্তানকে নিয়ে তার দিন কাটে টানাপোড়েনে। যেদিন কাজ জোটে না, সেদিন পরিবারের খাবার ও অন্যান্য খরচ মেটাতে ধারদেনা করতে হয়, নয়তো প্রয়োজনীয় ব্যয় কমিয়ে কোনো মতে দিন পার করেন। এই অবস্থা শুধু হেলাল মিয়ার নয়, তার মতো খেটেখাওয়া মানুষের একই অবস্থা। বাজারে নিত্যপণ্যের চড়া দামে নাভিশ্বাস উঠেছে নিম্ন আয়ের মানুষের।
সুনামগঞ্জের শহরের কিচেন মার্কেটে গিয়ে দেখা যায়, মাছ ও সবজির বাজার চড়া। দামে শুনে অনেক ক্রেতা বিস্ময় প্রকাশ করছেন। মাছের বাজারে দেশীয় মাছের সরবরাহ কম থাকায় চাষের মাছ কিনতেও গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা।
২৩ অক্টোবর (শুক্রবার) বাজার ঘুরে দেখা যায়, মাছের বাজারে দেশীয় মাছের আকাল রয়েছে। ফলে চাষের মাছের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে ক্রেতাদের। বাজারে রুই ও কাতলা মাছ প্রতি কেজি ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা, পাঙ্গাস ১৭০ টাকা এবং অন্যান্য মাছ ২০০ থেকে ২৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
অন্যদিকে, সবজির বাজারে কিছু পণ্যের দাম আগের তুলনায় কমলেও অধিকাংশ সবজিই ক্রেতাদের নাগালের বাইরে বলে মনে করছেন অনেকে। বাজারে ফুলকপি ও শিম প্রতি কেজি ১২০ টাকা, কাঁচামরিচ ১০০ টাকা এবং টমেটো ১২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া অন্যান্য সবজির বেশির ভাগই ৮০ টাকার নিচে পাওয়া যাচ্ছে না।
কেনাকাটা করতে আসা শহরের বাসিন্দা সুহেল আহমেদ বলেন, বাজারে এসে নির্দিষ্ট বাজেটের মধ্যে কেনাকাটা করা এখন অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। আয় তো বাড়েনি, কিন্তু চাল, ডাল থেকে শুরু করে মাছ সবজি সবকিছুর দাম যেন আকাশছোঁয়া। হাওরাঞ্চলের জেলা হওয়া সত্ত্বেও বাজারে দেশীয় মাছ পাওয়া যাচ্ছে না, আর চাষের মাছের দামও সাধারণের নাগালের বাইরে। কৌশলে অসাধু ব্যবসায়ীরা দাম বাড়াচ্ছে। প্রশাসন যদি কঠোর ব্যবস্থা না নেয়, তবে সীমিত ও নিম্ন আয়ের মানুষের টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে।
বাজারের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে মাছ বিক্রেতা নাইম মিয়া বলেন, বাজারে দেশীয় মাছের সরবরাহ একেবারেই কম। হাওর ও নদী থেকে এখন আগের মতো মাছ আসছে না, তাই আড়তেই আমাদের বেশি দামে মাছ কিনতে হচ্ছে। বেশি দামে এনে অল্প লাভে বিক্রি করলেও ক্রেতাদের কাছে মাছের দাম বেশি ঠেকছে। সবজি বিক্রেতা রজাত মিয়া ও চরমু মিয়া তালুকদার জানান, পাইকারি বাজারে সবজির দাম কিছুটা কমলেও পরিবহন খরচ ও স্থানীয় সরবরাহের সমস্যার কারণে খুচরা বাজারে এর পুরোপুরি প্রভাব পড়ছে না। শীতের সবজি বাজারে পুরোপুরি নামলে দাম আরও কিছুটা কমতে পারে। আমরাও চাই সবজির দাম কমুক, কারণ দাম বেশি থাকলে সাধারণ ক্রেতারা কিনতে পারেন না, এতে আমাদের বিক্রিও অনেক কমে যায়।
সচেতন নাগরিকরা জানান, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের এমন অস্বাভাবিক দামে সীমিত আয়ের মানুষকে সংসারের খরচ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। মাছ ও সবজি কিনতে গিয়ে নির্ধারিত বাজেটের বাইরে অতিরিক্ত টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে ক্রেতাদের। সবজির দাম কিছুটা কমলেও মাছের বাজারে চড়া দাম এবং অধিকাংশ সবজির উচ্চমূল্যের কারণে বাজারে কেনাকাটায় স্বস্তি ফিরছে না। সাধারণ ক্রেতাদের জোরালো দাবি, বাজারে পণ্যের সরবরাহ বজায় রাখতে ও কৃত্রিম সংকট রুখতে স্থানীয় প্রশাসনের নিয়মিত বাজার মনিটরিং ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা জরুরি।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
বাজারে স্বস্তি নেই, বাড়তি দামে দিশেহারা নিম্ন আয়ের মানুষ

বাজারে স্বস্তি নেই, বাড়তি দামে দিশেহারা নিম্ন আয়ের মানুষ