সুনামগঞ্জ , শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬ , ৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ইয়াবার চালানসহ জুলাইযোদ্ধা হিমেল জনতার হাতে আটক ভুয়া প্রেগন্যান্সি রিপোর্ট দিয়ে কিশোরকে ফাঁসানোর চেষ্টা, থানায় অভিযোগ দিরাইয়ে নারীদের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ জলাবদ্ধতা নিরসনে পৌরসভার বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান স্বামীর ছুরিকাঘাতে স্ত্রী খুন নির্মাণ হচ্ছে জয়কলস হাইওয়ে পুলিশের নিজস্ব ভবন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি কার্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন জামালগঞ্জে ৬৭ পিস ইয়াবাসহ দুই যুবক গ্রেপ্তার ‎জামালগঞ্জ প্রেসক্লাবের সঙ্গে নবনিযুক্ত ইউএনওর মতবিনিময় সভা নিজের অর্থে গড়া বাড়িতেই উঠতে পারছেন না মেক্সিকো প্রবাসী সাজেদা ‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান’র ব্যাখ্যা দিলেন প্রধানমন্ত্রী লিবিয়া-গ্রিসে মানবপাচার, ১৮ বাংলাদেশির মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেফতার ১ চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ পাচ্ছে না সুনামগঞ্জ সংখ্যালঘু নিরাপত্তায় পূজা উদ্যাপন ফ্রন্টের ৭ দফা দাবি যারা ‘সরকারকে সময় দেওয়া যাবে না’ বলছে তাদের বিষয়ে সতর্ক থাকুন : প্রধানমন্ত্রী দোয়ারাবাজারে ভিডিও কনফারেন্সে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী গোবিন্দগঞ্জে স্কুলছাত্রকে মারধর ‎ক্ষতিগ্রস্ত বর্গাচাষীদের পাশে ইউএনও সঞ্জয় ঘোষ ইরা’র ‘লাইট’ প্রকল্পের শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা বিনিময় সভা সড়ক দুর্ঘটনায় শিক্ষার্থী আহত, প্রতিবাদে মানববন্ধন

নিরাপদ সড়ক আর কোনো দাবি নয়, এটি আমাদের বেঁচে থাকার অপরিহার্য শর্ত

  • আপলোড সময় : ১৬-০৯-২০২৫ ০৮:২৬:১২ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১৬-০৯-২০২৫ ০৮:২৬:১২ পূর্বাহ্ন
নিরাপদ সড়ক আর কোনো দাবি নয়, এটি আমাদের বেঁচে থাকার অপরিহার্য শর্ত
সড়ক দুর্ঘটনা আজ আর নতুন কোনো খবর নয়। প্রায় প্রতিদিনই সংবাদপত্রে এ সম্পর্কিত খবর প্রকাশিত হচ্ছে। কিন্তু সম্প্রতি শান্তিগঞ্জ উপজেলার জয়কলস এলাকায় ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের দুই কর্মী - জহিরুল ইসলাম ও সবদর আলীর মৃত্যু কেবল একটি পরিসংখ্যান নয়, বরং আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে, সড়ক ব্যবস্থাপনার ভয়াবহ অব্যবস্থা ও চালকদের বেপরোয়া আচরণ কীভাবে রাষ্ট্রযন্ত্রের অঙ্গনেও ছোবল বসাচ্ছে। সহকর্মীদের মানববন্ধনে কান্না আর ক্ষোভের ভাষা ছিলো ¯পষ্ট- চালকের অবহেলায় দুইটি পরিবার আজ নিঃস্ব। এ মৃত্যু কেবল দুইজন ব্যক্তির নয়, এটি দুইটি পরিবারের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করে দিয়েছে। সবদর আলীর মা, স্ত্রী ও দুই সন্তান এখন অনিশ্চয়তায়, জহিরুল ইসলামের পরিবার একই অন্ধকারে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। এ অবস্থায় প্রশ্ন জাগে, আমাদের সড়কগুলোতে প্রতিদিন যে অসংখ্য মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে, তাদের পরিবারের অনিশ্চয়তার দায় কে নেবে? বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনার মূল কারণগুলো বছরের পর বছর ধরে একই রকম থেকে গেছে, চালকের বেপরোয়া গতি, লাইসেন্সহীন বা প্রশিক্ষণবিহীন চালক, যানবাহনের অযতœ, সড়কের অপরিকল্পিত নকশা ও কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার অভাব। এই নির্দিষ্ট দুর্ঘটনায়ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, মোটরসাইকেল সড়কের বাঁ পাশে থাকলেও বিপরীত দিক থেকে আসা প্রাইভেট কারটি উল্টোদিক দিয়ে গিয়ে ধাক্কা দেয়। এটি নিছক দুর্ঘটনা নয়, এটি সুস্পষ্ট অবহেলা এবং হত্যার শামিল। আমরা মনে করি, এ ঘটনায় দায়ী চালককে দ্রুত গ্রেপ্তার করে কঠোর শাস্তির আওতায় আনা উচিত। একইসঙ্গে নিহতদের পরিবারকে সরকারিভাবে ক্ষতিপূরণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। তবে কেবল এই ঘটনার বিচার করলেই দায়িত্ব শেষ হবে না। প্রয়োজন একটি দীর্ঘমেয়াদি, টেকসই সড়ক নিরাপত্তা কর্মপরিকল্পনা। যেখানে চালকদের প্রশিক্ষণ, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, যানবাহনের ফিটনেস যাচাই এবং কঠোর আইনের বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা হবে। এই দুর্ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিটি মৃত্যু একটি পরিবারকে শূন্য করে দেয়। সহকর্মীদের মানববন্ধনের ভাষায় “আমরা শুধু দুই সহকর্মীকে হারাইনি, আমরা আমাদের পরিবারের দুই সদস্যকে হারিয়েছি।” সমাজ ও রাষ্ট্র যদি এই শূন্যতার দায় নিতে ব্যর্থ হয়, তবে প্রতিটি নতুন মৃত্যু আমাদের ব্যর্থতারই প্রতিফলন। এখনই সময়, দায়িত্বশীল পদক্ষেপ নেওয়ার। শুধু নীতিনির্ধারকদের নয়, সড়কে চলাচলকারী প্রত্যেক চালক ও নাগরিকেরও সচেতন হওয়া জরুরি। নিরাপদ সড়ক এখন আর কোনো দাবি নয়, এটি আমাদের বেঁচে থাকার অপরিহার্য শর্ত।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
ইয়াবার চালানসহ জুলাইযোদ্ধা হিমেল জনতার হাতে আটক

ইয়াবার চালানসহ জুলাইযোদ্ধা হিমেল জনতার হাতে আটক